দিনাজপুরে লৌহ খনির সন্ধান

দিনাজপুরে কয়লা ও পাথরের খনির পর এবার সন্ধান মিলেছে মূল্যবান লৌহ খনির। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এটিকে লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি হিসেবে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে। হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নে সন্ধান পাওয়া এই খনির আকার ও মজুদ নির্ণয়ে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ের ড্রিলিং কাজ পরিচালনা করছে জিএসবি, যা শেষ পর্যায়ে। পুরোপুরি আবিষ্কার হলে এটিই হবে বাংলাদেশের একমাত্র লৌহ খনি।  দিনাজপুর জেলায় ইতিমধ্যেই ৪টি খনি আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি কয়লা খনি ও একটি পাথর খনি।   এই ৪টি খনির মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও একই উপজেলায় মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পুরোদমে উত্তোলন চলছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়াও নবাবগঞ্জ উপজেলার দিঘীপাড়ায় কয়লা খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং ফুলবাড়ী কয়লা খনির কয়লা উত্তোলন স্থানীয় জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে।

এরই মধ্যে আবিষ্কার হয়েছে এই লৌহ খনি। এর ড্রিলিং কাজ শুরু হয়েছে গত ১৯ এপ্রিল। এর আগে ২০১৩ সালে একই ইউনিয়নের মুর্শিদপুর গ্রামে ড্রিলিং কাজ সম্পন্ন করে জিএসবি।

গত ২৬ মে বিকালে হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে ড্রিলিং কাজ পরিদর্শন করতে আসেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিএসবির পরিচালক (অপারেশন) মঈনুদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (ভূতত্ত্ব) সাইদুল হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে জিএসবির মহাপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এর আগে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর থেকে কিছু কাজ করা হয়েছিল। সেই তত্ত্ব উপাত্তের ভিত্তিতে আবারো চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে এখানে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ৫০৩ ফুট নিচ পর্যন্ত ড্রিলিং কার্যক্রম চালিয়েছি ও সেই কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ড্রিলিং কার্যক্রম করে এখানে যা পেয়েছি তাতে করে এখানে লৌহ্য জাতীয় দ্রব্যের সন্ধান মিলেছে, মজুদও আশানুরুপ রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে ৭৩ শতাংশ আকরিক লোহার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখানে ম্যাগনেটাইট জাতীয় আকরিক লোহা ছাড়াও আরো মূল্যবান খনিজ সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া যাবে।