ফরমালিন বিরোধী অভিযান, জরিমানা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকানে ও বাজারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত ফলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। নগরীর রমনা, লালবাগ, মিরপুর, তেজগাঁও, মতিঝিল, ওয়ারী, গুলশান ও উত্তরা এলাকার বাজার ও দোকানগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরীক্ষা করে আমে ১.৮৫ থেকে ২৭.৬৬ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। জাম এ ৪.১৮ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। লিচুতে ২.১২ থেকে ১৯.৫৫ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। এছাড়া মাল্টায় ২.৭০ থেকে ৮.০৮, আপেলে ৯.০২, আনারসে ২.৩০ থেকে ১২.০৮, কলায় ২.১০ থেকে ৪.৩৪, থাই লিচুতে ৩.২৬, আঙ্গুরে ১.২৬ থেকে ৭.২০, চেরী ফলে ৫২.০০ এবং তরমুজে ১.২৫ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। অভিযানে ৫১ মণ আম, ২০ কেজি জাম, ৪১৭০০টি লিচু, ১৪০ কেজি মাল্টা, ১১০ কেজি আপেল, ২৯৫টি আনারস, ২০০টি কলা, ২০ কেজি থাই লিচু, ৩৩ কেজি আঙ্গুর, ২ কেজি চেরী ফল, ১০০টি তরমুজ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে । এদিকে রাজধানীতে কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে কোন ফলে ফরমালিন বা কার্বাইড মেশাতে দেখলে বা ঐ কাজে কাউকে সহযোগিতা করতে দেখলে বা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে ০১৭১৩৩৯৮৩১৩, ০১৭৭০৫৪০৯০৪ নাম্বারে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়াও রাজধানীর ৮টি প্রবেশ পথে ডিএমপি’র ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর ও ধৌড় এলাকায় আড়াইশ মণ আম ধ্বংস করেছে চেকপোস্ট পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করে ফরমালিন মিশ্রিত আম ধ্বংস করা হয়। আব্দুল্লাহপুরে ৩০টি ফলের গাড়ির মধ্যে ৩টি ও ধৌড় এলাকায় ৩৬টি গাড়ির মধ্যে ৫টি গাড়ির আমে ফরমালিন ধরা পড়ে। পরে সেগুলো আটক করে ধ্বংস করা হয়। এদিকে তুরাগ থানার ধৌড় এলাকায় ফরমালিন চেকপোস্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় শুক্রবার রাতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে ফল ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও তাদের সহকারীদের। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুল আরিফ রাত ১২টায় চলে যাওয়ার পর শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত আটককৃত আটটি ফলের গাড়ির কোনো সুরাহা হয়নি। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা তাদের ফল নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফল ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ফরমালিনযুক্ত লিচু ধ্বংসের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় ফরমালিনমুক্ত বাকি লিচুগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দুইদিক দিয়েই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, তাছাড়া ভাড়া করা গাড়ি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে না পারলে দ্বিগুণ ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্র জানান, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় উত্তরা কৃষিবিদ অ্যাসোসিয়েশনের জন্য বরাদ্দ করা ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো দ্রুত গাড়ি থেকে নামানো প্রয়োজন। নইলে ফলগুলো কোনো কাজেই আসবে না। এ ব্যাপারে উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) গোবিন্দ চন্দ্র দে ইত্তেফাককে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় ফলের গাড়িগুলো কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে। পরে গতকাল সকাল ১০ টা নাগাদ ফরমালিন চেক করে গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়া হয়।