সালাম মুর্শেদীর কলাম
আর্জেন্টিনাই ফেভারিট তবে...
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, বেশ কয়েকটি ফেভারিট দল খেলে ফেলেছে ম্যাচও। তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটা বড় অংশের বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে মাত্র আজ থেকে। কারণ, প্রিয় দল মাঠে না নামা পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আমেজটা ঠিক টের পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, বিপুল দর্শক সমর্থনপুষ্ট লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মিশন শুরু হচ্ছে আজ। প্রতিপক্ষ বসনিয়া।
শক্তিমত্তা বিচারে এই ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা। পক্ষান্তরে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা বসনিয়াকে অনুপ্রাণিত করবে একটি বিষয়, তাদের দেশের পরিস্থিতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিশ্বকাপের মতো একটা টুর্নামেন্টে জয়ের চাইতে বড় আর কিছু হতে পারে না। আমার বিশ্বাস দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে মরণপন লড়াই উপহার দেবে তারা।
এই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে মেসি চাইবেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে তার ফর্মকে জাতীয় দলেও টেনে আনতে। সেটা যদি তিনি করতে পারেন, তাহলে আর্জেন্টিনার কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। এবার অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও উঠেছে এই তারকার হাতে। সুতরাং অনুপ্রেরণার কোন কমতি থাকছে না তার।
আজ রাতের সবটুকু আলো মেসির উপরে থাকলেও আর্জেন্টিনা পক্ষে গোল পেয়ে যেতে পারেন যে কেউ। আমি বরং সেই সম্ভাবনাই বেশি দেখছি। যদিও ভক্তরা মেসির পায়েই গোল দেখতে চাইবেন। কিন্তু একটা দলে যখন মেসির মতো সুপারস্টার থাকেন, তখন প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়কে তাকে মার্ক করতে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই সুযোগটাই নিতে পারেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো অথবা গঞ্জালো হিগুইন।
আর্জেন্টিনার রক্ষণ আক্রমণভাগের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হলেও এই ম্যাচে সেটা হয়তো কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার জন্য খুব বড় কোন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হবে বসনিয়ানদের। মেসি-হিগুইনদের পেছনে আছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া-হ্যাভিয়ের মাচেরানোর মত তারকাও। সব মিলে বসনিয়ার রক্ষণকে বড় একটা পরীক্ষাই দিতে হবে তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে বসনিয়ার আর্জেন্টিনার মতো এক ঝাঁক তারকা না থাকলেও, তাদের দলীয় সমঝোতার কথা বলতেই হবে। এই দুরন্ত টিম স্পিরিটের পেছনে খানিকটা হলেও অবদান রেখেছে দেশটির আর্থ-সামাজিক অবস্থা। একটা যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে না, সেটা ঐ দেশের মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালীও করে তোলে। এর বড় প্রমাণ বসনিয়া দলটি। এডিন জেকো বাদে বড় কোন তারকা দলে না থাকলেও বাছাইপর্বে অসাধারণ ফলাফল দেখিয়েছে দলটি। আজ রাতেও দলীয় সমঝোতাই হবে তাদের মূল অস্ত্র। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাটা কাজ করবে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসাবে। আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত রক্ষণভাগ সামলে তারা চাইবে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল আদায় করতে।
এদিকে রাতের অন্য খেলায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স খেলবে হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে। ফ্রাঙ্ক রিবেরির চোট কিংবা সামির নাসরির না থাকার পরেও, আমি বলবো দিদিয়ের দেশমের দলের আজ জিততে বেশি সমস্যা হবার কথা নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক প্যাট্রিক এভরাকে নিয়ে দারুণ একটা রক্ষণভাগ আছে তাদের। লেফট ব্যাক-রাইট ব্যাক দু’জনেই দুইউইং থেকে আক্রমণ চালাতে দক্ষ। আক্রমণভাগে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা করিম বেনজামা। মিডফিল্ডে রিবেরির অভাব পূরণে সক্ষম পল পোগবা। সব মিলে পরিষ্কার ফেভারিট তারা।
সুইজারল্যান্ড-ইকুয়েডর ম্যাচে ফেভারিট নয় কেউই। শক্তির বিচারে তাদের অবস্থান কাছাকাছি। আমি বলবো, যে দল সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে তারাই।
এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সব চাইতে আলোচিত বিষয় নি:সন্দেহে স্পেনের বিশাল পরাজয়। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এত বড় হারের ঘটনা এটাই প্রথম। গত বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল নেদারল্যান্ডস। যদিও আমি নিশ্চিত সমর্থকরা তো দূরের কথা খোদ ডাচ দলও ভাবতে পারেনি এত বড় জয়ের কথা। আসলে রোবেন-পার্সিদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই ম্যাচে ভাগ্য ডাচদের পক্ষে ছিল, গত কয়েকটি বিশ্বকাপ যেটা ছিল না। আপনি যদি পার্সির ঐ হেড কিংবা প্রথম গোলের সময় রোবেনের দুই ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দৃশ্যটি দেখেন, দেখবেন সেগুলো ছিল একেবারে নিখুঁত। দশ বার চেষ্টা করলে হয়তো একবার সম্ভব সেটা। তবে তাই বলে ডাচদের কৃতিত্ব কমছে না। মনজুড়ানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারা।
স্পেনের জন্য এই হারটা একটা সতর্কবার্তা। আমার বিশ্বাস স্পেনের পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ চিলি খুব রক্ষণাত্মক খেলতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে। যদি চিলি তাতে সফল হয়, স্পেনের জন্য বড় বিপদই অপেক্ষা করছে তাহলে।