বিপদ কাটিয়ে ব্রাজিলের স্বস্তি

স্কোর লাইন খানিকটা বিভ্রান্ত করতে পারে। ৩-১ গোলে ক্রয়েশিয়াকে ব্রাজিলের হারানোর স্বাভাবিক অর্থ দাঁড়ায় ইউরোপিয়ান দলটিকে নিয়ে অনেকটা ছেলে খেলাই করেছে সেলেচাওরা। আর মাত্র ১১ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ার পর স্কোর লাইনটা ব্রাজিলের জন্য আরও মর্যাদাজনকই হয়ে উঠছে। কিন্তু পরিসংখ্যান যে মস্ত এক বোকা! ব্রাজিল জিতেছে বটে, কিন্তু লুই ফিলিপ স্কোলারির দলের খেলায় সেই জোগো বনিতার ছাপ কোথায়। তার উপর প্রথমেই নিজেদের জালে বল ঠেলে দিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের জন্য লজ্জার কারণ হয়েছে মার্সেলো। শেষটায় যে ব্রাজিল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলো এটাই তাদের বড় প্রাপ্তি। কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি এজন্য অবশ্য নিজেদের যোগ্যতাকে নয়, বরং স্নায়ুচাপকেই দায়ী করলেন, ‘মাঠে আমাদের মন মত সবকিছু হচ্ছে না। প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন হয়। আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছি। তবে শেষে আমরা গোল করতে পেরেছি। এটাতে অবশ্যই আমি সন্তুষ্ট। প্রয়োজনের সময়ই আমরা গোল পেয়েছি।’ ৪-৩-২-১ পজেশনে খেলতে নেমে প্রথমার্ধের শুরুর দিকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি ব্রাজিলিয়ানদের। মাঝমাঠে লুইজ গুস্তাভো, পলিনহোর চেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লুকা মড্রিচ, ইভান রাকিটিচরা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয় ব্রাজিল। বলা ভাল, ছন্দ ফিরিয়ে আনেন নেইমার। ২৬ মিনিটে তার ৪০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে গোল আসার পর কিছুটা হলেও নিজেদের গুছিয়ে নেয় ব্রাজিল। সমতায় থেকেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। ৬৮ মিনিটে গিয়ে ব্রাজিলকে পেনাল্টি এনে দেন ফ্রেড। তবে সেই পেনাল্টি নিয়ে কম জল ঘোলা হচ্ছে না। রিপ্লে থেকে মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায় ডেজান লভরেন বেআইনি কোন ফাউল করেননি ফ্রেডকে। কিন্তু ফ্রেড মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বেজে ওঠে রেফারি ইউচি নিশিমুরার বাঁশি। ব্যস, এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজে পায় ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রয়েশিয়ার কোচ নিকো কোভাচ বলেন, ‘এটা যদি পেনাল্টি হয়, তাহলে আমাদের বাস্কেটবল খেলা উচিত। এই ধরনের ফাউলে পেনাল্টি বাস্কেটবলেই দেখা যায়। সত্যি ঘটনাটা লজ্জাজনক। বিশ্বকাপে এই ধরনের বাজে রেফারিং মেনে নেয়া যায় না’। ৭০ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই জোড়া গোল করে বিশ্বকাপকে নিজের করে নেয়ার মঞ্চ প্রস্তুত করে ফেলেছেন ২২ বছর বয়সী নেইমার। নেইমারের প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি বলেন, ‘ও আমাদের জন্য বিশেষ একজন খেলোয়াড়। আমরা ওর উপরই ভরসা রাখি। আর এটা ও নিজেও জানে।’ নেইমার বাদে হাল্ক কিংবা ফ্রেড কেউ তেমন একটা জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে ম্যাচে অস্কারকে একটু আলাদাভাবেই চোখে পড়েছে। গোটা ম্যাচে দারুণ খেলা চেলসির এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইনজুরি সময়ে এসে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় গোল করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। একই সাথে সর্বশেষ মৌসুমে চেলসির হয়ে সহ্য করা সকল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। স্কোলারি তাকে নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘অস্কার ভাল খেলেছে। ও বিশুদ্ধ ফুটবল খেলেছে। ব্রাজিলের প্রত্যেক বাবাই ওর মত একজন সন্তান চায়। মুখে সে কিছুই বলেনি। খেলা দিয়েই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছে।’ ব্রাজিলের সামনেও এখন সেই একই চাপ! খেলা দিয়েই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে হবে। সেই সুযোগটা স্বাগতিকদের সামনে আসবে আগামী ১৭ জুন। ফোর্তালেজায় বাংলাদেশ সময় রাত একটা মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। মেক্সিকো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে গত শুক্রবার রাতে ১-০ গোলে হারিয়েছে ক্যামেরুনকে।