দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজশাহী বিভাগে মৌসুমি বায়ুর দেখা নেই

জুন মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজশাহী বিভাগে মৌসুমী বায়ুর দেখা নেই। কবে পৌঁছুবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না আবহাওয়া দপ্তর। এবার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রয়েছে। আর্দ্রতা বেড়েছে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে শুক্রবার থেকে চরম অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রবিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। মৌসুমী বায়ুর প্রধান শাখাটি ভারতের কেরলে পৌঁছার কথা ১ জুন। তা ৫ দিন দেরি করে ৬ জুন সকালে পৌঁছে; কিন্তু তার উত্তর-পূর্ব মুখী গতি ছিল খুব দুর্বল। সেখানে থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে ৭/৮ দিন লাগে। ইতিমধ্যে আরব সাগরে নানৌক নামে একটি ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। যার কারণে মৌসুমী বায়ুর এ শাখাটির গতি থেমে যায়। তবে নানৌক দুর্বল হয়ে গেছে। এখন মৌসুমী বায়ুর এ শাখাটি গতি পাবে বলে আশা করছে আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসলে মৌসুমী বায়ু আরো গতি পাবে। আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক আবহাওয়াবিদ শাহ আলম জানান, এ শাখাটি ১৭ জুন নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঢুকতে পারে। তখন বর্তমানের এ অস্বস্তি কেটে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তিনি জানান, এ বছর দেশে বৃষ্টিপাত কম হবে। আর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। মৌসুমী বায়ুর অপর শাখা ভারতের আন্দামান-মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এটি ঢাকা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে; কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল। যে কারণে প্রত্যাশিত বৃষ্টি নামছে না বলে তিনি জানান। কোন কোন জায়গায় স্থানীয় ভাবে বজ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ কয়েক ঘণ্টার জন্য স্বস্তি পাচ্ছে। বর্ষা না আসা পর্যন্ত স্বস্তি আসবে না বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়।