মধুখালীতে দুই শতাধিক একর জমির পাট বিনষ্ট
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৪, ২১:২৯
পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মধুখালীতে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুই শতাধিক একর পাটের উত্পাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুখালী সদর ইউনিয়নের মীরের কাপাসহাটিয়া এবং দত্তের কাপাসহাটিয়া মৌজার খামার দোহাল, বড় দোহাল এবং মোন্দার দোপ অঞ্চলের প্রায় একশ’ একরের ঊর্ধ্বের জমি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা খরার কারণে সেচ দিয়ে এসব জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিল আবার হঠাত্ একদিনের ভারি বর্ষণেই পাটের ক্ষেতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধুখালী ইউনিয়নের পাটচাষী ইমান আলী জানান, জলাবদ্ধতায় তার দেড় একর জমি তলিয়ে গেছে, তার এলাকায় প্রায় শতাধিক পাটচাষী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মধ্যে মোহর খান, ইলিয়াস মল্লিক, মফিজ সেক, ছিদ্দিক সেক, মকবুল মোল্লা উল্লেখযোগ্য। জাহাপুর ইউনিয়নের পাটচাষী সনাতন মন্ডল জানান, ভাড়ালিয়ার বিল, মাঝডাঙ্গী, সারির বিল, ঘাড়ুয়ার বিল এলাকার প্রায় ২৫ একর জমিতে, কামারখালী ইউনিয়নের পাটচাষী নাজেম মল্লিক জানান, কুঠির বিলে ৫ একর জমিতে, মেগচামী ইউনিয়নের বনগ্রাম ও নরকোনা মাঠে প্রায় একশ’ একর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
মধুখালী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা জানায় তাদের এই জলাবদ্ধতা কৃত্রিম। আগে পানি প্রবাহ ছিল। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে পানি প্রবাহ সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি ছোট ক্যানাল কেটে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করলে প্রায় ১ হাজার একর জমিতে পাটচাষ সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পাটচাষীরা জানায়, ইতিমধ্যে তারা সেচ, বীজ, জমিচাষ, সার ও পরিচর্যা বাবদ প্রতি একরে প্রায় ১৮/২০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, বিষয়টি উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা প্রত্যেক ইউনিয়নের মূলত কি পরিমাণ পাটচাষী জমি জলাবদ্ধতায় ক্ষতির মুখে পড়েছে তা নিরূপণ করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে তা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।