উপজেলার বলধারা ইউনিয়নে নদী-খাল-বিল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। থামছে না মাটি টানার কাজে অবৈধ যান মাহেন্দ্রর ব্যবহার ও অপ্রাপ্ত বয়সী চালকদের বেপরোয়া চালনা। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এগুলো চলছেই। বালু ব্যবসায়ীরা ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিনই বালু উত্তোলন করছে। এতে করে বালু ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।
বলধারা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে— পারিল মৌজার রামকান্ত বিলে ভেকু এবং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। মাহেন্দ্রতে করে এ বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। জানা গেছে, বালু উত্তোলনের কারণে এবং বালুবোঝাই মাহিন্দ্রর চলাচলে রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। কোনো কোনো রাস্তা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় আগামী বর্ষায় সেগুলো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বলধারা বাজারের উত্তর পাশে রামকান্ত বিল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার গাড়ি বালু বিক্রি করেছে তারা। প্রতি গাড়ি বালু ৮শ টাকা হিসাবে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ লাখ টাকার বালু বিক্রি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান এবং ভূূূূূূূূূূমি অফিসকে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ভূমি নায়েব আবু তালেব বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি এসি ল্যান্ড অফিসকে জানিয়েছি।
বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে এসিল্যান্ড হামিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য আমি এখনই নায়েবকে বলছি। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ পর গত রবিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেল বালু উত্তোলন আরো জোরেশোরে চলছে।
এ দিকে, সম্প্রতি বায়রা নয়াবাড়ি ধলেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহূত ভেকু ও মাটি টানার কাজে ব্যবহূত ৮টি মাহেন্দ্র জব্দ করে আট চালককে ৩ মাসের জেল দিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ।
তিনি জানান, আটক সব চালকই অপ্রাপ্তবয়স্ক। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বালু কাটা হচ্ছে এবং মাটি ভর্তি মাহেন্দ্র চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এক জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি কিভাবে তদ্বির করেন তা বুঝতে পারছি না, তবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।