গাছ বিক্রির সঙ্গে চলছে তথ্য সেবার কাজ

গাছ কিভাবে রোপণ করতে হবে। কিভাবে এর পরিচর্যা করতে হবে। কি পরিমাণে সার, পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এসব বিষয় নগরীর বেশিরভাগ বৃক্ষপ্র্রেমীরই অজানা। তবে এসবের সমাধান পাওয়া যাচ্ছে নগরীর শেরেবাংলা নগরে জমে ওঠা জাতীয় বৃক্ষ মেলা থেকে। মেলার বেশ কয়েকটি স্টলে গাছ বিক্রির সাথে চলছে তথ্য সেবার কাজ। শুধু গাছ রোপণ করলেই চলবে না, প্রয়োজন নিয়মিত গাছের পরিচর্যা। নির্দিষ্ট দূরত্বে গাছ রোপণ করতে হবে। গাছের খাদ্য হিসেবে নিয়মিত সার, পানি প্রয়োগ করতে হবে। ৭-৮ দিন পর পর গাছের গোড়ায় মাটি উল্টে-পাল্টে দিতে হবে। মাসে একবার গাছের গোড়ায় গুটি ইউরিয়া দিতে হবে। কমবয়সী গাছে ফল আসা ক্ষতিকর, তাই মুকুল দেখলেই ভেঙে দিতে হবে। গাছের গোড়ায় চায়ের পাতা দিলে সারের কাজ করবে। কোনো গাছে বা ফুলে পচন দেখা দিলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। যাতে অন্য ডালে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। কোনো গাছে ছত্রাক দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শিশুরা যেন সেখানে না যায়। এমন সব তথ্য দিচ্ছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন। মেলায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সারীতে এ পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্টলে একটি খামার, একটি বাড়ি তৈরির সব তথ্য দেয়া হচ্ছে। বাড়ির আশেপাশের কোন জায়গা নষ্ট না করে কিভাবে একটি গ্রিন বেল্টের আওতায় আনা যায় এমন পরামর্শ দিচ্ছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। বাড়ির ছাদে বাগান করার পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে এখান থেকে। এছাড়া স্টলে গাছের কলম তৈরির সকল পদ্ধতি হাতেকলমে দেখানো হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিঝুম কাইয়ুম তালুকদার জানান, একটি খামার, একটি বাড়ির আওতায় বাড়ির আশপাশের কোন জায়গা নষ্ট না করে, বাগান করে গৃহকর্মী কিভাবে সেটির সুন্দর ব্যবহার করতে পারেন এমন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্য নিজেদের ব্যবহারের পরও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এই স্টলে রয়েছে একটি খামার, একটি বাড়ির ডিজাইন। রয়েছে ছাদের উপরে বাগানের ডিজাইন। পাশপাশি আছে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও পরিচিত গাছপালা। মেলায় আসা বৃক্ষপ্রেমীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন স্টলে রাখা বিভিন্ন ডিজাইন দেখতে। রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে সপরিবারে মেলায় আসা নুসরাত শারমিন জানান, ছাদে বাগান করার নানা পদ্ধতি জানলাম। ভাবছি ছাদের জায়গা নষ্ট না করে বাগান করে ব্যবহার করবো। পাতা ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে, হলুদ হলে সালফার ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে আর পাতা পিচ্ছিল হলে তখন শুধু ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেই চলবে। সকালে হালকা রোদ থাকতেই গাছে পানি দিতে হবে এবং বিকালেও রোদের আলো কমে এলে গাছে পানি দিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় গাছ থাকলে সবসময় পানি দিলে গাছে ছত্রাক দেখা দিতে পারে, তাই গাছের জন্য আলো-বাতাসের ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে। গাছে গোবর সার ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া ইউরিয়া,পটাশ এগুলো দেয়া যেতে পারে। এখন বৃষ্টি-বাদলের দিন। তাই বৃষ্টি হলে খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি না জমে। সম্ভব হলে প্রতি মাস অন্তর গাছের মাটি পরিবর্তন করতে হবে এমন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে বিএডিসি নামক নার্সারি থেকে। বাংলাদেশ গ্রিন রুফ মুভমেন্ট নামক স্টলেও চলছে তথ্য সেবা। বাড়ির ছাদে সবুজ বাগান সম্পর্কিত সব তথ্য বিনামূল্যে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া গাছ রোপণের সব উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে স্টল থেকে। গাছ পরিচর্যার নিড়ানি, কীটনাশক স্প্রে করার স্পেয়ার, কাঁচি ইত্যাদি সব উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে রংপুর, রাজশাহী ও মৌসুমী নামক নার্সারিতে।