জার্মান রক্ষণের প্রতিপক্ষ রোনালদো
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:২৬
জার্মানি ও পর্তুগালের মধ্যকার আজকের খেলাটি দিয়ে বিশ্বকাপ এখন আরো গতি পেলো। শুধু তাই নয় ব্রাজিলে ফন্তে নোভা এলাকায় দুই ফেভারিটের খেলাটি দর্শকদের জন্য অনেক আনন্দের প্রতিশ্রুতিও বয়ে আনছে। যদিও অনেকের চোখে এটা যতটা দুই দলের খেলা তার চাইতেও বেশি বড় একটা দলের বিরুদ্ধে বড় একজন খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই।
রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে এখনো সংশয় আছে। কেননা আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের একদিন পর গত বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে তাকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। ব্যালন ডি’অর জয়ী ও পর্তুগীজ অধিনায়ক রোনালদোকে বাম হাঁটুতে বরফের আচ্ছাদন লাগিয়ে মাঠ ছাড়েন। এর মানে তার ইনজুরি পুরোপুরি সারেনি।
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা হাঁটু ও উরুর সমস্যার কারণে টুর্নামেন্ট পূর্ব কয়েকটি প্রীতি ও দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। পর্তুগাল শিবির অবশ্য জানাচ্ছে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে পুরো পরিস্থিতি যে কোচ পাওলো বেন্তোর জন্য দুশ্চিন্তার তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কেননা রোনালদো হলেন দলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সেটা তিনি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেই প্রমাণ করেছেন।
জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো’র সুবিধা তার কাছে রোনালদোর মতো বড় তারকা নেই। কিন্তু আছে বাস্তিয়ান শুয়েনস্টেইগার, ফিলিপ লাম কিংবা মেসুত ওজিলের মতো কার্যকর একাধিক খেলোয়াড়। টানা দুইটি বিশ্বকাপে জার্মান দলকে পরিচালিত করতে যাওয়া এই কোচ আরো জানেন পর্তুগালের সাথে মুখোমুখিতায় তার দলের এগিয়ে থাকার বিষয়টিও। দুই দল বার্লিন প্রাচীরের আগে পরে সব মিলিয়ে যে ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে তাতে নয়টিতে জিতেছে জার্মানি। পর্তুগাল জিতেছে কেবল তিনটিতে। তাও সেটি ছিল ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। তবে উভয় দল বিশ্বকাপ পূর্ব তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচেই অপরাজিত আছে। যদিও পর্তুগালকে ব্রাজিলের টিকেট কাটতে হয় বাছাইপর্বে জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনের বিরুদ্ধে প্লে অফ জিতে।
এ খেলাটিতে রোনালদোর পাশাপাশি মিরোস্লাভ ক্লোসা যদি খেলতে নামেন তার উপরও নজর থাকবে ফুটবলামোদীদের। কেননা ক্লোসা বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতা ব্রাজিলের রোনালদোর ১৫ গোলের রেকর্ডটি থেকে কেবল একটি পেছনে আছেন। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে গোল দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার (৬৯) রেকর্ডটিও গড়ে নেন। সঙ্গত কারণেই দুই গোল পেলেই ইতিহাস গড়বেন ক্লোসা।
এদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনেও আছে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিকে আরো উন্নত করার। ইতোমধ্যে তিনি ১১১ খেলায় ৪৯ গোল করে অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন।
ধারণা করা যায় পেপে, ফ্যাবিও কোয়েনট্রাও, ন্যানি, জোয়াও মোটিনহোর মতো খেলোয়াড়রা তাদের মেধার প্রয়োগ ঘটাতে পারলে রোনালদো বাহিনী ব্রাজিল বিশ্বকাপের জোর ফেভারিট জার্মানদের বড় রকমের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবে।
* পর্তুগালের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি খেলার মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপে শততম ম্যাচ খেলবে জার্মানি। ইতালির পর জার্মানিই একমাত্র দল যারা এ কৃতিত্ব অর্জন করতে যাচ্ছে।
* বিশ্বকাপে জার্মানি সর্বশেষ ১৮ ম্যাচের মধ্যে একটিতে মাত্র হেরেছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের সর্বশেষ হারটা ২০১০ সালের ১৮ জুন, সার্বিয়ার বিপক্ষে। বাকি ১৭টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছে জার্মানরা। ড্র হয়েছে চারটি ম্যাচ।
* এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’র দল জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২০০২ সালের বিশ্বকাপেও মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। দু’টি ম্যাচেই হেরেছিল তারা।
* এবারের বিশ্বকাপের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ৩৬টি গোল করেছে জার্মানি।
* বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ইউরোপীয় অঞ্চলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পর্তুগালের মিডফিল্ডার জোয়াও মটিনহো সবচেয়ে বেশি (১০) পরিমাণ গোলে বল যোগান দিয়েছেন।
* বিশ্বকাপে পর্তুগালের সামপ্রতিক রেকর্ড তেমন ভাল নয়। বিশ্বকাপে গত সাতটি ম্যাচের মধ্যে একটিতে মাত্র জয় পেয়েছে তারা। হারতে হয়েছে তিনটি ম্যাচে; ড্র হয়েছে তিনটি ম্যাচ।
* বিশ্বকাপ আসরে পর্তুগালের তারকা উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও তেমন সফল নন। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত গোলপোস্ট অভিমুখে মোট ৪৮টি শট নিয়ে গোল পেয়েছেন মাত্র দু’টি।
* বিশ্বকাপ আসরে জার্মানি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার গোল সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪টি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী রোনালদোকে স্পর্শ করতে আর একটি গোলের প্রয়োজন তার।
* জার্মানি-পর্তুগাল এ পর্যন্ত ১৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে জার্মানির নয়টি ম্যাচের বিপরীতে পর্তুগাল জয় পেয়েছে তিনটিতে। ড্র হয়েছে পাঁচটি ম্যাচ।