এখনও আশাবাদী হজসন

বিশ্বকাপটা তাদের জন্য প্রায় সব সময়ই আসে হতাশা নিয়ে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর সর্বশেষ ১৯৯০ সালে উঠেছিল সেমিফাইনালে। এর বাইরে ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপে প্রাপ্তির খাতাটা সামান্যই। এই বিশ্বকাপেও সূচনাটা মন মত হল না ইংল্যান্ডের জন্য। শক্তিশালী দল ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরে গেল ইংল্যান্ড। পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ইংল্যান্ডের কোচ রয় হজসন। কিন্তু এখানেই বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ দেখছেন না তিনি। দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলেছি। আমার সময়ে ইংলিশ দলকে আমি কখনও এতো ভাল খেলতে দেখিনি। এতো কিছুর পরও হারটা আসলে মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়াটা একটু কষ্টকর। এরপরও আগামী দুটি ম্যাচে ভাল খেলার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। আশা করি আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছাতে পারবো।’ গ্রুপ পর্বের লড়াইটা ইংল্যান্ডের জন্য বেশ খানিকটা কঠিনই হয়ে গেল। সেজন্যই কি না প্রথম ম্যাচে হারের পরই দলটি ব্যাকফুটে চলে গেছে বলে মন্তব্য করলেন দলের কোচ, ‘ইতালি সেরা শুরুটা করেছে, কোস্টারিকাও তাই। উরুগুয়ে আর আমরা ‘ব্যাক ফুটে’ আছি। ইংল্যান্ডের পরের দুটি ম্যাচ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে। এই ম্যাচ দুটি জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাদের। এখন পর্যন্ত পরের রাউন্ডে যাওয়ার হিসেবটা নিজেদের হাতে আছে বলে খুশি হজসন। ইতালির কাছে হেরে যাওয়ার বৃত্তে পড়ে থাকতে চান না তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে এবং খেলোয়াড়দের বোঝাতে হবে, তারা যদি পরের দুটি ম্যাচে এই পারফরম্যান্সের অনুবাদ করতে পারে, তাহলে ফল পাওয়ার ভলো সম্ভাবনা আছে।’ গত শনিবার মানাউসে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইংল্যান্ড। তবে, দারুণ আক্রমণের পর আক্রমণ সাজিয়েও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এর জন্য অবশ্য ইংল্যান্ডের রক্ষণই দায়ী। ডি বক্সের বাইরে হঠাত্ই পাহারাহীন হয়ে পড়েন ক্লাওদিও মার্কিসিও। এর সুযোগ নিয়ে দারুণ এক গোল করে ইতালিকে এগিয়ে দেন তিনি। স্টারিজ ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরালেও রক্ষণের আরেকটি ভুলে আবার এগিয়ে যায় ইতালি। গ্যারি কাহিলকে ফাঁকি দিয়ে দারুণ এক হেডে ইতালির জয়সূচক গোলটি করেন মারিও বালোতেল্লি। দলের তরুণ খেলোয়াড় ড্যানিয়েল স্টারিজ, রাহিম স্টার্লিং, ড্যানি ওয়েলবেকরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেলায় খুশি হজসন। তবে হারটি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাকে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। একই সাথে আমরা দারুণ খেলেও হারের পর মানসিক ভাবে খানিকটা বিপর্যস্ত। আমরা পরিপূর্ণ একটা শুরুর আশা করেছিলাম। কিন্তু জীবনে তো আর সব কিছু পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ার্ধে একটা গোল পেলেও হত! কিন্তু সেটাও হল না।’