বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৪৩
২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরী বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ার বড় কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। তাছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। আগামীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারলে রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। কাঙ্ক্ষিত ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে জিডিপি (মোট দেশজ উত্পাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও অসম্ভব হবে না।
গতকাল রবিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনুসর এবং এমসিসিআইয়ের কমিটি মেম্বার আদিব এইচ খান। এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড.এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, এমসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট এম আনিস উদ-দৌলা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পকিল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না বলে অর্থনীতিবিদরা যে আশঙ্কা করছেন তা শেষ পর্যন্ত ঠিক নাও হতে পারে। কারণ ভবিষ্যত সম্পর্কে আগে থেকে কিছু বলা যাবে না।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার যে এডিপি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা করেছে তার অর্থায়ন নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। কারণ এনবিআরের আয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হলে সরকারের ঋণ বেড়ে যেতে পারে। এজন্য বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে শ্রমিক রফতানি কমে যাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে সরকারের জোর তদারকি প্রয়োজন। বাজেটে এনবিআর কর্তৃক আয়ের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ ভাগ বেশি। এতো বেশি কর আদায় করা এনবিআরের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ (জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান ভিত্তিতে) আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ (পার্সেন্টেজ পয়েন্ট) বাড়াতে হবে। এতো বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অনেক বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার। এ লক্ষ্যে আগামী বছরের বাজেটে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুত্ উত্পাদনে খরচ বেশি হবে। বিনিয়োগের সুবিধার্থে সুদের হার কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তা বলা হয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। অন্যথায় বিনিয়োগ বাড়বে না।
আনিস উদ-দৌলা বলেন, বাজেটে পাট ও শ্রমিক রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে রকম কিছু দেখা যায়নি। অথচ এ দুটি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। জ্বালানি খাতে সরকার গুরুত্ব দিলেও জ্বালানি প্রাপ্তিতে দিক নির্দেশনা নেই।
সভাপতির বক্তব্যে রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, আগামী অর্থবছরে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের প্রশিক্ষণ ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় জনবলের সঙ্কট দূর করার পরামর্শ দেন এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট।