সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি ৩ আগস্ট
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৪৫
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার চার্জ গঠনের শুনানি আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ লা মংয়ের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করায় বিচারক শুনানি মূলতবির আদেশ দিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে আসামিপক্ষ? ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ ধারায় মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন আদালতে জমা দেন। এছাড়া একটি মামলার অভিযোগপত্রের উপর রাষ্ট্রপক্ষের নারাজি পিটিশন ছিল। মামলার আগামী ধার্য তারিখে এ দু’টি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে বিচারক নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে পল্টন ময়দানে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ও সলিমপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাঁশবাড়িয়া থেকে তিনজন এবং সলিমপুর থেকে একজনকে আটক করে। এ ঘটনায় এসআই গোলাম ফারুক ভুঁইয়া বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সীতাকুণ্ড থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ছিল না। তবে গ্রেফতার হওয়া দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশে তারা গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে এ দু’টি মামলার চার্জশিট দাখিল করে। বাঁশবাড়িয়ার ঘটনায় ১১ জনকে এবং সলিমপুরের ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীর নাম থাকলেও চার্জশিটে তা বাদ দেয়া হয়। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ২০১১ সালে এ অভিযোগপত্রের উপর নারাজি দেন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে আমরা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে পারিনি। এ জন্য আমাদের সময় প্রয়োজন। নারাজি আবেদন, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতির আবেদন সব বিষয়েই শুনানি করার জন্য সময় প্রয়োজন। আদালত আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় মঞ্জুর করেছেন।
গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১১টায় কঠোর পুলিশ পাহারায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্য আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালত ভবন ত্যাগ করেন। এসময় একদল আইনজীবী ও নেতাকর্মী স্লোগান দিতে দিতে পুলিশ বেষ্টনি ভেঙে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ চারজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। তবে আটক চারজনের নাম জানা যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কঠোর পুলিশ পাহারায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে সালাহউদ্দিন কাদের ঢাকার বনানী থেকে গ্রেফতার হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছর ১ অক্টোবর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।