কী করে এলো
চলচ্চিত্র
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ১৯:৫৬
উনবিংশ শতকের শেষ ভাগে মূলত কোনো একটি মুহূর্তের কতগুলো ধারাবাহিক স্থিরচিত্রকে দ্রুত চালনার মাধ্যমেই সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র তৈরি করার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। তখন জোট্রোপ এবং প্র্যাক্সিনোস্কোপ নামক যন্ত্র দিয়ে এ ধরণের ছবি তৈরি করা যেত। একেবারে সাধারণ আলোক যন্ত্রের (ম্যাজিক লণ্ঠন) উন্নতি সাধন করে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। আর এর প্রধান কৌশল ছিল কতগুলো স্থিরচিত্র একটার পর একটা এত দ্রুত পরিবর্তন করা যাতে করে দর্শকের চোখে পরিবর্তন খুব একটা ধরা না পড়ে। পরবর্তী সময়ে স্থির চিত্রগ্রহণে সেলুলয়েড ফিল্ম আসার পর চলমান বস্তুর সরাসরি ছবি তোলা সম্ভব হলো। প্রাথমিক যুগে একটি ড্রামের মধ্যে বেশ কিছু ছবি লাগিয়ে ড্রামটিকে জোরে ঘোরানো হতো। একটা বিশেষ দিক থেকে দর্শক ড্রামের দিকে তাকালে চলমান চিত্র দেখতে পেতো। ড্রামের গতি ছিল সাধারণত সেকেন্ডে ৫ বা ১০ বার। এই প্রযুক্তির অল্প কিছুদিন পরেই আবিস্কৃত হয় চলচ্চিত্র ধারণের জন্য বিশেষ ক্যামেরা। এর মাধ্যমে অনেকগুলো স্থিরচিত্রকে একটি মাত্র রিলে সংরক্ষণ করা যেত। এই রিলগুলোকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র রূপে দেখানো হতো প্রজেক্টরের মাধ্যমে। প্রজেক্টরের আলো রিলের উপর ফেলা হতো এবং রিলের ছবিগুলোকে বিবর্ধিত করে একটি বড় পর্দার উপর ফেলা হতো যা দর্শকরা দেখতে পেতো। ১৮৯৪ সালের দিকেই ডিকসন শব্দ এবং ছবি একসাথে ধারণের পরীক্ষা শুরু করেছিলেন। যদিও উনবিংশ শতকের শেষ পর্যন্ত নির্বাক চলচ্চিত্রই ছিল একমাত্র চলমান শিল্প মাধ্যম। বিংশ শতকের শুরুতে চলচ্চিত্র বর্ণনামূলক ধারায় রূপ নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দৃশ্যগুলোকে বিভিন্ন কোণ থেকে নেয়া অনেকগুলো শটে ভাগ করা হয়। এ ছাড়া চলমান ক্যামেরার মাধ্যমে চলচ্চিত্র গল্প ফুটিয়ে তোলার কৌশলও আবিস্কৃত হয়। যদিও এই সময়ে এসেও চলচ্চিত্রে শব্দ সংযোজনের বিষয়ে ঠিক সফল হয়ে উঠতে পারেননি নির্মাতারা। পরবর্তীতে বিশের দশকেই প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে চলচ্চিত্রের শটগুলোর সাথে ঐকতান বজায় রেখে শব্দ, সংগীত এবং কথোপকথন যুক্ত করা সম্ভব হয়। যাত্রা শুরু হয় সবাক চলচ্চিত্রের। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র শিল্পে আরেকটি বড় সংযোজন হয়ে আসে প্রাকৃতিক রঙ যুক্ত করার বিষয়টি। বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে চলচ্চিত্র শিক্ষাও গুরুত্ব অর্জন করে। আর নব্বইয়ের দশকের পর ডিজিটাল প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারণাটিকে আরো বেগবান করে তোলে।