ঠাকুরগাঁওয়ে আম-লিচুর
বাগান বাড়ছে
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২০:৪৮
ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে লিচু ও আমের বাগান। এবার প্রথম দফায় বৈরী আবহাওয়ার সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ফলন রক্ষায় সফল হয়েছেন চাষিরা। তবে আম ও লিচুর স্বাদ নিতে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ দাম গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এদিকে কৃষিবিভাগ ও বাগান মালিকরা বলছেন, এ এলাকায় দিন দিন বাগান বৃদ্ধির পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের।
শহরের সত্যপীর ব্রিজ এলাকার আব্দুর রশিদ জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ঘিডোব গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির উপর তৈরি করেছেন আম ও লিচু বাগান। প্রতিবছর তিনি ঐ বাগান থেকে আয় করেন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঐ বাগান বছর চুক্তিতে নেয়া আম ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান জানান, এ বছরের প্রথম পর্যায়ে আমের ফলনে বিপর্যয় দেখা গেলেও কঠোর পরিশ্রমে তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এবার প্রতিকেজি আম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে এ ব্যবসায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে, তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে ইচ্ছে মতো দাম। তিনি আরো বলেন, এ বাগান দেখভালের জন্য প্রতিদিন কাজ করছেন ৬০ জন শ্রমিক। এ এলাকার আম রাজশাহী এলাকার আমের মতোই।
মাটি ও আবহাওয়া ভাল হওয়ায় এ জেলায় প্রচুর আমের উত্পাদন হয়। ঐ বাগানে কাজ করছেন ঘিডোব গ্রামের আঞ্জুয়ারা, মরিয়ম খাতুন ও শেফালী আকতার। তারা বলেন, দিনের বেলায় লিচু বাগানে কাজ করে প্রতিদিন হাজিরা পাই ১৫০ টাকা। ঘরে বসে থাকার চেয়ে বাগানে কাজ করায় সংসারের অভাব কিছুটা হলেও দূর হয়। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচেও কিছুটা সহায়তা হয়।
বাগানের শ্রমিক আশরাফ আলী বলেন, রাতে পাহারাদার হিসেবে এ বাগানে কাজ করে প্রতিদিন পাই ২০০ টাকা। এ এলাকায় বাগান হওয়ায় শ্রম বিক্রি করা যাচ্ছে। যদি আরো বাগান হতো তবে ৩ থেকে ৪ মাস কাজের নিশ্চয়তা থাকতো। আরো অনেক শ্রমিক কাজ করতে পারতো।
ঐ বাগানের মালিক আব্দুর রশিদের ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে আম ও লিচুর বাগান দিন দিন বাড়ছে। এ আম-লিচু বাগান দেখে অনেক যুবক ঘরে বসে না থেকে বাগান গড়ে তুলছে। আম ও লিচু বাগান কেন্দ্রিক চাষীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হলে বাগান আরো বাড়বে। মামুন আরো বলেন, বিশেষ করে এ এলাকায় ফল কেন্দ্রিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন বাগান মালিকরা ফলের ন্যায্যমূল্য পাবে অন্যদিকে বাগানগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
কৃষিবিভাগ জানায়, এবার জেলায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম ও ৭শ’ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এ থেকে আম উত্পাদন হবে ৩০ হাজার মে. টন আর লিচু হবে ২ হাজার টন। তবে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এলাকায় আরো ফলের বাগান গড়ে উঠবে। এতে যেমন উত্পাদন বাড়বে, তেমন সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের- এমন মন্তব্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কমল কুমার সরকারের। তিনি আরো বলেন, এ জেলার গোলাপি, চায়না থ্রি, বেদেনা জাতের লিচু ও আম্রপালি, সূর্যপুরী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া জাতের আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।