দক্ষিণ-দক্ষিণ সহায়তা জোরদার করতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

জি৭৭ গ্রুপের শীর্ষ সম্মেলন ২৪২ দফা ঘোষণার মধ্যদিয়ে রবিবার শেষ হয়েছে। দু’দিন ধরে চলা এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩৩ সদস্য রাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা ও বহুমুখী আর্থিক সংস্থাগুলোর ঋণহারসহ ১শ’রও বেশি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঘোষণায় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকে প্রাধান্য দেয়াসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চরম দারিদ্র্য নির্মূলে ২০৩০ সাল নাগাদ একটি নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সম্মেলনের প্লে¬নারি অধিবেশনে ভাষণকালে তৃণমূল পর্যায়ের লাখ লাখ লোকের কল্যাণে বেসরকারিখাতসহ সকলের অংশগ্রহণে দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতা আরো সমপ্রসারণ ও গভীর করতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য সহায়ক হবে। দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা সুবিধাজনকভাবে জোরদার করা যেতে পারে। দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য বাস্তব উদ্যোগের ক্ষেত্রে সকল খাত বিশেষ করে বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বিশ্বে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে এবং দক্ষিণও আর্থিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নিম্নআয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে অংশ নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৃহত্তর অংশকে অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে নিতে হবে। আর এটিই এ গ্রুপের মূল ও গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা। জি৭৭ গ্রুপে বাংলাদেশ সবসময়ই অবদান রাখছে উল্লে¬খ করে রাষ্ট্রপতি তার আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ঐক্যের ভিত্তিতে জি৭৭ গ্রুপ সকলের জন্য উন্নয়ন ও ধরিত্রী রক্ষা কর্মসূচিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাসচিব বান কি মুন দারিদ্র্য ও অসমতা দূর, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একযোগে কাজ করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আগামী ১৯ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সেক্রেটারিয়েটে বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেয়া একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২১ জুন রাষ্ট্রপতি নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। ২২ জুন তাঁর ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।