চার শর্তে বাংলাদেশ হতে পারে দ. এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২১:২১
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সভাপতি অধ্যাপক ড. আকিহিকো তানাকা বলেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার, প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। এ দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, কার্যকর ও যুগোপযোগী কৌশল নির্ধারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ যত বেশি ও দ্রুত দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে তত দ্রুত ও টেকসই উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের বন্ধু হিসেবে জাপান সবসময়ই পাশে আছে ও থাকবে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আকিহিকো তানাকা ‘জাইকা’স স্ট্রাটেজি: বেঙ্গল বে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) এন্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাইকার সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু হার রোধ, মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষা এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাফল্য দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে জাপান সহযোগিতা করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, গ্রামীণ উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দু’দেশের বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আলোচনা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রস্তাবিত বিগ্-বি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশকে কূটনৈতিক সমর্থন প্রদানকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান একটি। জাপান-বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বহুগুণ বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন, জাপান স্টাডি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আবুল বারকাত, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: কাউসার আহাম্মদ।