চিলির বিপক্ষে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পেন কোচের
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২১:৫০
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৫-১গোলে হারায় স্পেনের কয়েকজন তারকা ফুটবলারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। ব্যাপারটা সত্যি হলে আগামীকাল বুধবার ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে চিলির বিপক্ষেই দেখা যেতে পারে পরিবর্তিত স্পেনকে।
স্পেন কোচ দেল বস্ক বলেছেন, ‘দলে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে এ নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাই না। আমি যদি একটি পরিবর্তনও আনি, তাহলে কার জায়গায় এ পরিবর্তন আনা হবে এ ব্যাপারে এখনই অঙ্গুলি নির্দেশ করতে চাই না। এটা (বিশ্বকাপ) অনেক ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট। আমরা সেরা সমাধানটাই খুঁজে বের করবো।’
স্পেনের অধিনায়ক গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াসের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে বেশি হতাশাজনক। দুইটি গোলই হয়েছে তার দায়িত্বহীনতায়। এরপরও ক্যাসিয়াস থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন না দেল বস্ক। স্পেন গোলরক্ষক নিজেও এই খেলাটিকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে বলে উল্লেখ করেন। গোলরক্ষকটির ব্যাপারে স্পেন কোচ বলেন, ‘ক্যাসিয়াস সবসময় তার নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছে এবং জাতীয় দলের হয়ে সে তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে। আমার মনে আছে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলন করে আমি ড্রেসিং রুমে এসে দেখলাম, সে সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলছে। তখনো তার ভূমিকা ছিল অধিনায়কের মতোই।’
এবারের দলটিতে গত বিশ্বকাপে খেলা বেশ কয়জন খেলোয়াড়কে রেখেছেন দেল বস্ক যারা ২০১৩-১৪ মৌসুমে সেরা ফর্মে নেই। এ জন্য স্পেন দলের সমালোচনাও করছেন অনেকে। বিশেষ করে বার্সেলোনার তিনজন খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে, জাভি হার্নান্দেজ এবং জর্ডি আলভার পারফরম্যান্স বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। যদিও দেল বস্ক বললেন, প্রত্যেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছে, ‘আমরা দলে যে ২৩ জনকে নিয়েছি এর মধ্যে ১৬ জনই গত আসরে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও অংশগ্রহণ করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল খেলেছে এবং লা লিগায়ও ভাল করেছে। তাছাড়া দলে সাতজন নতুন খেলোয়াড়ও রয়েছে।’
এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস যে ভীতিকর হয়ে দাঁড়াবে এটা আগেই আচ করতে পেরেছিলেন বলে জানালেন স্পেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম তারা স্থায়ী কোনো বিপদ নিয়েই আবির্ভূত হচ্ছিল এবং আমরা তাদের থামাতে সক্ষম ছিলাম না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সবসময় আমাদের এই ধরনের ফল বরণ করতে হচ্ছে। এই ধরনের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে আমাদের আরও ভাল প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন ছিল। যদিও এটা সহজ কিছু নয়। হল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা খুবই তিক্ত শাস্তি পেয়েছি।’
ডাচদের কাছে হারটির পর দেল বস্ক পরবর্তী ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ভাল খেলার কথা বললেন,‘আমরা স্পোর্টসম্যান। আমাদের কোনো পছন্দ নেই, আমাদের নিজেদের মেলে ধরতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এখন পরবর্তী ম্যাচ। এই ম্যাচে অবশ্যই আমাদের লড়াই করতে হবে।’
গত বিশ্বকাপ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার দিয়ে শুরু করেছিল স্পেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বেই চিলির বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট পায় দেল বস্কের দল। এবারও সেই চিলিই বাঁচা-মরার প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তাদের সামনে। আগামীকাল বুধবার মারাকানা স্টেডিয়ামে চিলিকে হারাতে না পারলে স্পেনকে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে এবার। এ ব্যাপারে কোচ বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের বিপক্ষে ভাল করতে হলে আমাদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হবে। কারণ, চিলি এমন একটি দল যারা আমাদের সামনে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে।’
এদিকে, নিজেদের প্রথম খেলায় হারের পরও হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন স্পেনের স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেস। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ আগে অথবা চার বছর আগে যেমনটা ছিলাম এখনো তেমনই আছি। বয়সের সঙ্গে আমাদের দলটিও পরিপক্ব হয়েছে। মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত। আমরা এখন চিলির দিকে তাকিয়ে আছি এবং তাদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করছি। মানসিকভাবে আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের গ্রুপটি একই সঙ্গে ভাল এবং খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি আমরা কী করতে সক্ষম। মনস্তাত্বিক ব্যাপারটা তেমন কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলে আমি মনে করি না।’
স্পেনের খেলার স্টাইলে কোনো ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনও নেই বলে মনে করেন তোরেস, ‘আমাদের স্টাইলে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনার কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আমরা আমাদের খেলার ধরন ধরে রেখেছিলাম এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।’