হিজফেল্ডের কৌশলে পরাস্ত ইকুয়েডর
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২১:৫২
হ্যারিস সেফেরোভিচের শেষ মুহূর্তের গোলে গতকাল গ্রুপ-ই’র নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ড পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে। আর জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পেরে শিষ্যদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ঝরেছে কোচ ওটমার হিজফেল্ডের কণ্ঠে।
মাঠের খেলায় কোন ভূমিকা রাখা সম্ভব না হলেও সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সুইজারল্যান্ডের জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন হিজফেল্ড নিজেই। বর্ণাঢ্য এক কোচিং ক্যারিয়ারের অধিকারী এই ক্যারিশম্যাটিক কোচের বদলি খেলোয়াড় নামানোর দুটি সিদ্ধান্তই ম্যাচ শেষে কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইনার ভ্যালেন্সিয়ার গোলে ব্রাজিলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অবশ্য খেলার শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল ইকুয়েডরই। তবে বিরতির পরই মাঠে নামা আদমির মেহমেদির গোলে সমতায় ফেরে সুইসরা। এরপর, আরেক বদলি হ্যারিস সেফেরোভিচের শেষ মিনিটের গোলে স্মরণীয় এক জয় পায় তারা।
বিশ্বকাপের পরই দারুণ সফল ক্যারিয়ারের ইতিটানার ঘোষণা দেয়া হিজফেল্ডের প্রশংসায় তাই পঞ্চমুখ ইউরোপের গণমাধ্যম। তবে বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো হিজফেল্ড নিজে অবশ্য বলছেন খেলোয়াড়দের কথা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড় মানসিক সক্ষমতাও এই ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে হিজফেল্ড সুইজারল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘আমি এই দলটাকে নিয়ে গর্বিত। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কি পরিমাণ চাপ থাকে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম ধৈর্য ধরতে। তারা সেটা করেছে এবং একটু একটু করে ম্যাচে ফিরে এসেছে।’
শুরুর এই জয় টুর্নামেন্টের পরবর্তী অংশে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলেও জানান হিজফেল্ড, ‘আমাদের ভাল শুরুর জন্য তিনটি পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল। সেটা পাওয়ায় প্রথম ধাপটি ভালভাবেই সম্পন্ন হলো। কোন সন্দেহ নেই দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এটা বড় ভূমিকা রাখবে। সেফেরোভিচ ক্লাবের হয়ে ভাল সময় কাটাতে না পারলেও সে যে তার (গোল করার) সহজাত প্রবৃত্তিটা হারিয়ে ফেলেনি দেখে ভাল লাগছে। একটা গোলের চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না। আপনি খুব বেশি সুযোগ পাবেন না, তবে যখন পাবেন তখন সেটা কাজে লাগানোর জন্য তৈরি থাকতে হবে।’
ভ্যালেন্সিয়ার গোলে প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল ইকুয়েডর। বামদিক থেকে সাবেক অধিনায়ক ওয়াল্টার আওয়িভির দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো ভ্যালেন্সিয়া হেডের সাহায্যে সুইস গোলরক্ষক দিয়েগো বেনাগলিওকে পরাস্ত করেন। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ভ্যালেন্সিয়ার টানা পঞ্চম গোল। এক গোলে পিছিয়ে থেকে সুইসরা নিজেদের ছন্দ আরো যেন হারিয়ে ফেলে। ৩০ মিনিট পরে প্রথমবারের মত তাদের পক্ষে একটি ভাল সুযোগ হাতছাড়া করেন ভ্যালেন্টিন স্টোকার। কর্ণার থেকে পাওয়া বলে এই মিডফিল্ডারের হেড অল্পের জন্য গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। এরপর বিরতির ১০ মিনিট আগে অধিনায়ক গোয়েখান ইনলারের নিচু শট ইকুয়েডরের গোলরক্ষক আলেক্সান্দার ডোমিনগুয়েজ দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করেন।
তবে ৪৮ মিনিটে ডোমিনগুয়েজ আর বাঁচাতে পারেননি দলকে। দুজন ডিফেন্ডারের মধ্যে থেকে রিকার্ডো রডিরিগুয়েজের কর্ণার থেকে বল পেয়ে হেডের সাহায্যে ডোমিনগুয়েজকে বোকা বানান মেহমেদি। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ফ্রেইবার্গের হয়ে ১৩ গোল করেছেন সুইস এই তারকা। আর জাতীয় দলের পক্ষে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল। ৭৫ মিনিটে জোপেস ডারমিকের পরিবর্তে হিজফেল্ড সেফেরোভিচকে মাঠে নামান। উভয় দলই যখন নিশ্চিত ড্রয়ের জন্য অপেক্ষায় ছিল তখন ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে ইনজুরি টাইমে তিন মিনিট যোগ হয়। সেখানেই কপাল পোড়ে ইকুয়েডরের। নিজেদের পোস্টে ইকুয়েডরের একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে বল দখলে নেয় সুইসরা। এরপর চোখের পলকে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ রচনা করে তারা। ইকুয়েডরের গোল সীমানার অনেকটা দূরে থেকে রড্রিগুয়েজ যে ক্রসটি করেন সেটা খুঁজে পায় রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকা সেফেরোভিচকে। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার।
এ জয়ে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে থাকা সুইজারল্যান্ড ওটমারের কোচিংয়ে ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণে যাত্রা শুরু করলো। বিশ্বকাপে ছয়বারের চেষ্টায় সুইজারল্যান্ড এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশের বিরুদ্ধে প্রথম জয়ের দেখা পেলো।