সন্তুষ্ট করিম বেনজেমা

স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা জানিয়েছেন বিশ্বকাপের প্রথম খেলাতেই ফ্রান্সের জয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এ সন্তুষ্টি আরো বেশি এ জন্য যে হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে দলের ৩-০ গোলের জয়ে তিনি নিজেও জোড়া গোল করেছেন। ব্রাজিলের পোর্তো অ্যালেগ্রেতে রবিবার অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের খেলাটিতে রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকারটির নৈপুণ্য ছিল নজরকাড়া। ২৬ বছর বয়সী বেনজেমা এ নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ২৩ গোল করলেন। তবে বড় মাপের কোন আসরে এ নিয়ে তৃতীয় চেষ্টায় সফল হলেন তিনি। ১৯৮৭’র ফরাসি প্রজন্মের অন্যতম সদস্য বেনজেমার এদিনের নৈপুণ্য জানান দিল শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রস্তুত। বেনজেমা অবশ্য বলেছেন, ‘আমি কোন রকম চাপের কথা না ভেবেই সে ফ নিজের ফুটবলটা খেলে যেতে চাই। দল জিতেছে বলে এবং ব্যক্তিগত দিক থেকে নিজে দুই গোল করেছি বলেও আমি খুবই সন্তুষ্ট।’ এটি ছিল বেনজেমার অভিষেক ম্যাচ। স্ট্রাইকার ২০১০ বিশ্বকাপের দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। এরপর ১৬ মাসে খেলা ১৫টি ম্যাচেই ছিলেন গোলশূন্য। গত অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আবার গোলের দেখা পান তিনি। তারওপর ফ্রান্স চার বছর আগের দু:স্বপ্ন কাটিয়ে এবারের বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করে জয়টি দিয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর গ্রুপ পর্বের খেলায় ফরাসিরা এ নিয়ে কেবল দ্বিতীয়বার জিতলো। চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ ও বাজে খেলা মিলিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। তাই ব্রাজিল বিশ্বকাপে শুরু থেকেই নিজেদের প্রমাণ দেয়ার একটা ব্যাপার ছিল কোচ দিদিয়ের দেশ্যামের দলটির। সে লক্ষ্যে ফরাসিরা শেষ পর্যন্ত খেলাটিতে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়েই নামে এবং প্রথম থেকে গোলের জন্য হন্যে হয়ে আক্রমণ চালায়। পিঠের ব্যথার কারণে দলের অন্যতম তারকা ফ্রাংক রিবেরির বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলে কোচ দিদিয়ের দেশ্যামের দলটিতে এখন তার ভূমিকাই মুখ্য। এদিনের খেলাতে বেনজেমাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আন্তনিও গ্রিয়েজমান ও ম্যাথিউ ভালবুয়েনা। তবে দেশ্যাম পুরো দলের নৈপুণ্যকেই বড় করে দেখছেন। যদিও তিনি বেনজেমাকে আলাদাভাবে প্রশংসা করতে ভোলেননি। দেশ্যাম বলেন, ‘করিম অবশ্য সেই লোক যে কিনা মুখ্য ভূমিকা রাখে। সে গোল করেছে। এটা করিম, আন্তনিও কিংবা ম্যাথিউ যেই হোক, তারা সবাই খুবই ভাল খেলেছে। মধ্যমাঠও ভাল করেছে। সে কারণেই আমাদের পক্ষে হন্ডুরাসকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।’ বেনজেমা বিশ্বকাপে খেলতে আসেন মাদ্রিদে কাটানো পাঁচ বছরের মধ্যে সেরা এক মৌসুম খেলে। এর মধ্যে আছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১০ম ইউরোপীয়ান কাপ ও স্পেনের কোপা ডেল রে। মাদ্রিদের হয়ে ২৪ গোল করলেও এখনো তার ভূমিকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও গ্যারেথ বেলের সহযোগী। তিনি নিজে সেভাবে তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্স ও হন্ডুরাস খেলার ম্যান অব দ্য ম্যাচ বলেন, ‘আমি আনন্দিত। আমি আমার গোলের জন্য গর্বিত। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো জয়। স্ট্রাইকার হিসেবে লোকজন মাঝে-মধ্যে আমাকে মূল্যায়ন করে আমি যে গোলগুলো করি তার নিরিখে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে আমি ভাল খেলছি এবং দলও জিতেছে।’ বেনজেমার এই স্বার্থহীন দৃষ্টিভঙ্গী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের সন্দিগ্ধ সমর্থকদের মন জয় করতে সাহায্য করে। এছাড়া রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তিরও প্রিয় মুখে পরিণত হন তিনি। ব্রাজিল বিশ্বকাপে এবার শুরু থেকেই গোলের ছড়াছড়ি। তার মধ্যে সব তারকারাই গোলের দেখা পাচ্ছেন। ব্রাজিলের নেইমার, নেদারল্যান্ডসের রবিন ফন পার্সি ও আরিয়েন রোবেনের পর বেনজেমাও সে তালিকায় যোগ হলেন। এখন দেখার পালা শেষ পর্যন্ত কে অন্যদের ছাড়িয়ে যান।