নাগেশ্বরীতে নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২২:২১
নাগেশ্বরীর নদ-নদীতে পানি বাড়ার সাথে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে অন্যত্র। জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে প্রায় প্রতি রাতের বৃষ্টিতে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ফুলকুমার, গঙ্গাধর, শংকোসসহ সকল নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে এসব নদ-নদী বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চরলুছনি, পাঁচমাথা, মিনাবাজার, বল্লভের খাসের নামারচর, শিকদার পাড়া, ভিতরবন্দ, মাঝিপাড়া, মাদারগঞ্জ ব্যাপারী পাড়া, কচাকাটার ধনীরামপুর, শোলমারীর একাংশ, বেরুবাড়ীর খেলারভিটা, চর রহমানেরকুটি, কালীগঞ্জের ধনীরপাড়, নারায়ণপুরের চরঝাউকুটি, বারোবিশ, অষ্টআশীর চর, মাঝিয়ালী ভাঙ্গছে। নুনখাওয়ার ৬০ মি. দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্র বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকেছে পানি। ভাঙ্গছে এ ইউনিয়নের বোয়ালমারী, চরপাটতলা, চরকাপনা ও মাঝেরচর। হুমকীর মুখে নুনখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নুনখাওয়া বাজার, মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও বিজিবি ক্যাম্প।
চরফ্যাশনে ১০ কি.মি. বেড়ী বাঁধ বিলীন
মিজানুর রহমান নয়ন, চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা \ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলার ১০ কিঃ মিঃ বেড়ী বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। এসব বেড়ী বাঁধের মধ্যে সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ কাজ শুরু করা গেলেও সাড়ে ৪ কিঃ মিঃ বাঁধ নির্মাণ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের আগে এসব বাঁধ নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে বসবাসরত লক্ষাধিক মানুষ প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া এতে উপজেলার আবাদী জমির আমন চাষ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ কিঃ মিঃ, মুজিব নগর ইউনিয়নের চর মোতাহারে সাড়ে ৩ কিঃ মিঃ এবং নজরুল নগর ইউনিয়নের ২ কিঃ মিঃ বেড়ী বাঁধ মেঘনা ও তেতুলিয়ার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। এসব বেড়ি বাঁধের মধ্যে মুজিব নগর ইউনিয়নের চর মোতাহারে সাড়ে ৩ কিঃ মিঃ এবং নজরুল নগর ইউনিয়নের ২ কিঃ মিঃ বেড়ী বাঁধ পুনঃ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। গত ৮ মে চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ কিঃ মিঃ বেড়ী বাঁধ পুুনঃ নির্মাণে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়সহ ১৪ কোটি টাকার ২২ গ্রুপ কাজের পুনঃ টেন্ডার হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ না দেয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়ী বাঁধের বিকল্প নতুন বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। এদিকে দাপ্তরিক জটিলতায় কাজ শুরুতে বিলম্বের কারণে বর্ষা মৌসুমের মধ্যে বাঁধ পুনঃ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এতে ভারী জোয়ারে কিংবা ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় উপচে পড়া জলরাশিতে উপজেলার এওয়াজপুর, রসুলপুর, মজিবনগর, চরমানিকা, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চরমাদ্রাজ এবং আছলামপুর ইউনিয়নের সব কটি গ্রাম প্লাবন ঝুঁকিতে রয়েছে।