অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন

দেশি কোম্পানিকে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে

এখন থেকে ব্যাংকগুলো অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বাংলাদেশি কোম্পানিতে মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানীয় কোম্পানির আমদানি রপ্তানি বিলে স্বীকৃতি, ক্রয়, ডিসকাউন্টিং, দেরিতে পরিশোধের শর্তে আমদানি বিল পরিশোধও করা যাবে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার গত ফেব্রুয়ারিতে জারি করা অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, এতদিন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে দেশি কোম্পানিতে ঋণ দিতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পূর্বানুমতি নিতে হতো। তবে অফশোর ব্যাংকিং যেহেতু সাধারণ ব্যাংকের মতো কার্যক্রম চালাবে এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়া যাবে। রপ্তানি নেই এ ধরনের দেশি প্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রপাতি, পণ্যে ব্যবহারিত কাঁচামাল আমদানিতেও অফশোর ইউনিট থেকে ঋণ দেওয়া যাবে।

দেশের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণের জন্য ১৯৮৫ সাল থেকে বাংলাদেশে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয়। আর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশেই বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) নীতিমালার কয়েক জায়গায় সংশোধনের দাবি জানিয়ে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয়। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল নীতিমালায় বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়।

তবে সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তহবিল মুক্তভাবে অনশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তর করা যাবে না। তবে অনশোর থেকে গৃহীত ঋণ, কর্জ, প্রযোজ্য সুদ, চার্জ ও ফি ফেরত দিতে বাধা নেই। এক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং হতে অন্য ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে তহবিল স্থানান্তর করা যাবে। আগের নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৬.১.১ এ উল্লেখিত রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রযোজ্য শর্তাধীনে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক সকল আর্থিক সেবা দেওয়া যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু সেবার কথা বলা হয়েছিল। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগবে না। তবে এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে বলে বলা হয়েছে।