পড়ি আবার ঘুরি

ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটেরিয়াল আর এক্সামের ফ্রেমের মধ্যে বাঁধা নয় ইউনিভারসিটি শিক্ষার্থীরা। এসবের পাশাপাশি নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে তার মুখরিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে আড্ডা। সেই আড্ডার আলোচনা বেশিরভাগই হয় ক্যারিয়ারভিত্তিক। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল-অসার। তাই অনেককে বলতে শোনা যায়, পড়ি আবার ঘুরিও। এসব নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুয়েল সামাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ফুরফুরে মেজাজের আড্ডায় সর্বদা মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। আড্ডা আর পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকে সবাই। তবে যার-তার সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। প্রিয় মানুষের সাথেই আড্ডা দেই। চেনা মুখগুলোর সাথে আড্ডা দিতেই বেশি মজা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদ্ল্লুল্লাহ আল হাসান বলেন, সারাদিন আড্ডা দিতে ভালো লাগে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আড্ডা দেই আমরা। ৪টা বাজতে গেল। বুঝতেই তো পারছেন আড্ডা কত মজার হতে পারে। আড্ডায় জড়িয়ে অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন নতুন বন্ধু। কেউবা মনের মানুষ। আর আড্ডা অনেককে করে তুলছে আত্মবিশ্বাসী। আইনের ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, আড্ডায় থাকলে মনে হয় আছি পরিবারের সাথেই। আড্ডার কারণেই ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাণের মেলায়। আড্ডায় না আসতে পারলে অস্থির লাগে। আড্ডার ফাঁকে চলে চায়ের কাপে চুমুক। কেউবা গিটার হাতে বসে যান। শুধু সমবয়সী না, বয়সে বড়দের সঙ্গেও আড্ডা জমে ওঠে। একই বিভাগের আদনান বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন ধারণা নেয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই উঠে আসে আড্ডায়। পক্ষে-বিপক্ষে চলে আলোচনা। আড্ডা মানে অফুরন্ত আনন্দ। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাসের কথা কল্পনাও করা যায় না। ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্রী আমিনা বলেন, আড্ডার মাধ্যমে জানা-শুনার পরিধি বাড়ে। ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে প্রাণ খুলে কথা বলা। আড্ডা মানে হাসি মুখ। আড্ডা মানে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেয়া। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল। মার্কেটিং বিভাগের ইলিয়াছ সরকার বলেন, সকালে-দুপুরে আড্ডা। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা। স্যার ক্লাসে না এলে তো সবাই মহাখুশি। ক্লাসে কিংবা বাহিরে এসে সবাই মিলে চলে জম্পেশ আড্ডা। এভাবেই কেটে যায় ক্যাম্পাসের স্বপ্নের দিনগুলো।