লাল
কার্ড
সমাচার
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ১৯:১৭
অস্ট্রেলিয়াকে বলা হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ‘নোংরা’ দল। কেন? ম্যাচ আর লালকার্ড দেখার অনুপাতে তারাই যে সবচেয়ে এগিয়ে! এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপের দশ ম্যাচে তাদের লালকার্ড চারটা। মানে প্রতি ম্যাচে তাদের লালকার্ড দেখার সম্ভাবনা শতকরা ৪০ ভাগ। কমপক্ষে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা দলের মধ্যে, দ্বিতীয় স্থানে আছে ক্যামেরুন। ২০ ম্যাচে তারা দেখেছে ২০টি লালকার্ড। ক্রয়েশিয়া ১৩ ম্যাচে তিনটি ও দক্ষিণ আফ্রিকা ও আলজেরিয়া নয় ম্যাচে দুটি। এই তালিকায় বড় দলগুলোর মধ্যে আছে কেবল পর্তুগাল। ২৩ ম্যাচে তারা দেখেছে পাঁচটি লালকার্ড। তবে এদের সবাইকেই ছাড়িয়ে গেছে সেরাদের তালিকায় থাকা তিন দল — ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। এই তিনটি দেশের বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখেছে যথাক্রমে ১১টি, ১০টি ও ৮টি করে লালকার্ড। ম্যাচ খেলার দিক থেকেও এরা অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে। চলমান বিশ্বকাপের আগে তারা খেলেছে যথাক্রমে ৯৭, ৭০ ও ৪৭টি করে ম্যাচ। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেখা গেছে মোট ১৫৯টি। বড় দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ‘সুবোধ’ বলা হচ্ছে স্পেনকে। কারণ ৫৬টি ম্যাচে তাদের মাত্র একজন খেলোয়াড়। ঘটনাটা হল ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের। সেবার স্পেনের হয়ে লালকার্ড পেয়েছিলেন মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল নাদাল। নাম দেখে খানিকটা ‘কেমন কেমন’ লাগছে তো? হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন তিনি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদালের চাচা। ইংল্যান্ডের জন্য প্রতি ম্যাচে লালকার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা শতকরা পাঁচ ভাগ। ৫৯টি ম্যাচে তারা পেয়েছে মোট তিনটি লালকার্ড। তাদের লালকার্ড পাওয়া খেলোয়াড়রা আবার বেশ নামকরা — রে উইলকিন্স (১৯৮৬), ডেভিড বেকহ্যাম (১৯৯৮) ও ওয়েন রুনি (২০০৬)।
তিনটির কম বিশ্বকাপ খেলা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ‘নোংরা’ দল হল চেক প্রজাতন্ত্র, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো। দু’টি দলই তিন ম্যাচে দু’টি করে লালকার্ড দেখেছে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম লালকার্ড পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেন হন্ডুরাসের উইলসন প্যালাসিয়াস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা ১৬০তম লালকার্ড। ফ্রান্সের বিপক্ষে গত রবিবার রাতের সেই ঘটনাটা ঘটেছিল ম্যাচের ৪৩ মিনিটে।
প্রথমার্ধেই লালকার্ড পাওয়া এমন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ দেখেছে মোট ১৪বার। এই বিশ্বকাপেই দ্বিতীয়বারের মত ঘটেছে এই ঘটনা। গত রবিবার পর্তুগালের পেপেও প্রথমার্ধে লালকার্ড পান। সবচেয়ে দ্রুত লালকার্ড পেয়েছিলেন উরুগুয়ের হোজে আলবার্তো বাতিস্তা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি মাঠ ছেড়ে বের হয়েছিলেন মাত্র ৫৬ সেকেন্ডের মাথায়। তার কথা ভেবে হয়তো কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পেতে পারেন পেপে-প্যালাসিয়াসরা! আর লালকার্ড পাওয়ার সংখ্যাটা এখন বেড়ে দাঁড়ালো ১৬১-এ।
পায়ের কারুকাজে যেমন অন্য অনেককে ছাড়িয়ে গেছেন ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, তেমনিভাবে ছাড়িয়ে গেছেন লালকার্ড পাওয়ার দিক থেকেও। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের বিখ্যাত সেই ‘ঠুস’ কাহিনীর পর লালকার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন জিজু। সেজন্যই বিশ্বকাপ হারায় ফ্রান্স। তবে, ব্যক্তিগত এক রেকর্ড ঠিকই পেয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত পেলেন লালকার্ড। প্রথমজন হলেন ক্যামেরুনের রিগোবার্ট সং। তিনি খেলেছিলেন ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে হলুদ কার্ড পাওয়ার নিজস্ব রেকর্ডটাও জিদানের। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুর সাথে যৌথভাবে তিনি পেয়েছেন ছয়টি লালকার্ড। বেঞ্চ থাকা অবস্থায় খেলোয়াড়ের লালকার্ড পাওয়ার রেকর্ডটা কেবল আর্জেন্টিনার একার। তাও একবার নয়, দু’বার। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্যায়ের ম্যাচে বেঞ্চে বসেই লালকার্ড দেখেছিলেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া। এরপরের বিশ্বকাপেই সাইড বেঞ্চ থেকে জার্মান ডিফেন্ডার পার মার্টেস্যাকারকে লাথি মেরে লালকার্ড দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দো কুফরে। বিশ্বকাপে ম্যাচের শেষ বাজি বাজার পর লালকার্ড পাওয়ার প্রথম নজির এটি।
খেলোয়াড়দের শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে মাঠের বাইরে বের করে দেয়ার ইতিহাস সেই ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপ থেকে চলে আসলেও লালকার্ড প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু হয় ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে এই নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হয়। তাই ফিফা আর লালকার্ড নিয়ে সেবার আর খুব বেশিদূর এগোতে পারেনি। এরপর লালকার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে। ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লালকার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন চিলির কার্লোস ক্যাসজেলি। শুরু হল নতুন এক অধ্যায়! তবে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ছাড়েন প্লাসিডিও গ্যালিন্দো। পেরুর এই খেলোয়াড় রোমানিয়ার বিপক্ষে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই। বের করে দেবার ঘটনাকেও এখন লালকার্ডের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লালকার্ড
দল সংখ্যা
ব্রাজিল ১১
আর্জেন্টিনা ১০
উরুগুয়ে ০৮
ক্যামেরুন ০৭
নেদারল্যান্ড ০৭
ইতালি ০৭
জার্মানি ০৭