‘মা ও শিশু সুরক্ষায় চাই নিরাপদ রক্ত’

অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ মা ও সন্তান উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্যই ভয়ানক ক্ষতিকর। মায়ের শরীরে অনিরাপদ রক্ত দেয়ার জন্য মা ও সন্তান উভয়েই এইচআইভি (এইডস), হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিসের মতো জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই মা ও শিশুদের জীবনরক্ষার জন্য জীবাণু ও দূষণমুক্ত নিরাপদ রক্ত দেয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন (রক্ত পরিসঞ্চালন) বিভাগ ও এশিয়ান এ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রান্সফিউশন মেডিসিন (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ক্লাসরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জলি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ আসাদুল ইসলাম। রোগীর কেস স্ট্যাডি উপস্থাপন করেন ডা. শেখ সাইফুল ইসলাম শাহীন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিয়ার রহমান। এদিকে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি। শোভাযাত্রাটির উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. এ.এস. এম. জাকারিয়া স্বপন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। বর্তমানে সংগৃহীত রক্তের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে আসে ৬৯ শতাংশ। মাত্র ৩১ শতাংশ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত। রক্তদান করলে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং রক্তদান করলে রক্তকণিকাসমূহ তৈরির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ সতেজ থাকা, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তবাহিত জীবাণু (টিটিআই) রয়েছে কিনা জানাসহ বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। তবে রক্ত দেয়ার পূর্বে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায় প্রয়োজনীয় রক্তের অভাবে। প্রসবকালীন রক্তের অভাবে বিশ্বে বছরে দেড় লাখ মহিলা মারা যায়। এছাড়া ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়াসহ অন্য রক্তরোগেও রক্তের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে রক্তের চাহিদা পূরণ এবং ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদান নিশ্চিত কার্যক্রম সফল করতে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত।