জবাইখানা থেকে মারাত্মক ফুডবর্ন ডিজিজ ছড়াচ্ছে!
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২০:৫০
জবাইখানা বা শ্লটার হাউজগুলো থেকে মারাত্মক ফুডপয়জনিং-এর জীবাণু ছড়াচ্ছে। আর এ খবরটি দিয়েছে বিশ্বের প্রধান রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসি বা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আরো বলেছে, চিকেন, অপ্রক্রিয়াজাত দুধ, চিজ থেকেও ফুডপয়জনিং হচ্ছে। এই যদি হয় যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি অতি উন্নত দেশের খাদ্যে বিষক্রিয়ার চিত্র, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হতে পারে তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।
সিডিসি বলেছে, যদি শুধু জবাইখানাগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে ফুডপয়জনিং-এর হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে। সিডিসির ফুডবর্ন ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ড. রবার্ট টাক্স উল্লেখ করেন, তারা ১৯৯৬ সাল থেকে ফুডবর্ন ডিজিজ নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করেন। ড. টাক্স উদ্বেগের সাথে বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা তো কমেইনি বরং অনেক বেড়েছে। ২০০৬-২০০৮ সালে যেখানে ফুডফয়জনিং ছিলো ১৪ শতাংশ এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে। সিডিসি বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, সালমোনেলা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ফুডপয়জনিং হয়। আর অন্তত ৪০ শতাংশ ফুডপয়জনিং-এর জন্য দায়ী এ জীবাণুটি। দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী ৩৫ শতাংশ ফুডপয়জনিং-এর ক্ষমতাধর জীবাণুটির নাম ক্যাম্পাইলো ব্যাকটার।
এদিকে সিডিসির বিশেষজ্ঞ ফুডপয়জনিং নিয়ন্ত্রণে জবাই খানাসমূহের স্বাস্থ্যকর দিকটি নিশ্চিত করতে এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ফুডসমূহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উলে¬খ্য, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুডপয়জনিং হলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ হতে পারে। তখন চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। তাই ফুডপয়জনিং রোধে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করা উচিত। আর এজন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব বেশি। এছাড়া আমাদের দেশের জবাইখানাগুলোর বেহাল অবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফুডবর্ন ডিজিজ সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ