ডেম্পসির রেকর্ড, আমেরিকার ঘানা জয়

অবশেষে বিশ্বকাপে ঘানার বাঁধা টপকালো আমেরিকা। আগের দুই আসরেই ঘানার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়া মার্কিনিরা গত সোমবার রাতে ২-১ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকান দেশটিকে। দলের এই জয়ের রাতে দারুণ এক ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দেও ভেসেছেন ক্লিন্ট ডেম্পসি। প্রথম আমেরিকান হিসাবে টানা তিন বিশ্বকাপে গোল করার পাশাপাশি ডেম্পসি গতকাল গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও। অসাধারণ এই জয়ের পর শিষ্যদের প্রশংসার বৃষ্টিতে ভিজিয়েছেন আমেরিকার কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যান। ম্যাচ শুরু হতে না হতেই গোল! খেলার বয়স যখন মাত্র ২৯ সেকেন্ড তখন ঘানার রক্ষণকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে নেন ডেম্পসি। এরপর থেকেই ঘানা আধিপত্য করতে থাকলেও সমতায় ফিরতে তাদের অপেক্ষা করতে হয় ৮২ মিনিট পর্যন্ত তবে খেলা শেষ হবার মাত্র মিনিট চারেক আগে জন ব্রুকসের হেডে বহুল আকাঙ্খিত জয়টি নিশ্চিত হয় আমেরিকার। এর আগে দুই আসরেই ঘানার কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল মার্কিনিদের। ২০০৬ সালে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-১ গোলে এবং পরের আসরে দক্ষিণ আফ্রিকায় শেষ ১৬ লড়াইয়ে ঐ একই ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে ঘানা এগিয়ে গিয়েছিল। তবে ক্লিন্সম্যান জানান, ঘানা ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে সমতায় ফিরলেও দলের খেলোয়াড়দের উপর পূর্ণ বিশ্বাসই ছিল তার। আর শিষ্যরা শেষ পর্যন্ত তার আস্থার প্রতিদান দেওয়ায় যারপরনাই আনন্দিত এই জার্মান। জার্মানির পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের অধিকারী ক্লিন্সম্যান বলেন, ‘দারুণ কঠিন একটা ম্যাচ ছিল এটা। তবে আমরা জানতাম ম্যাচটা এমনই হবে। ঘানার মতো শক্তিশালী একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের যে সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়তে হবে এটা অনুমিতই ছিল। তবে, শেষ দিকে ঘানা সমতায় ফিরলেও জয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসীই ছিলাম আমি। আমি জানতাম বাকি সময়টাতে আমরা আরো দু’তিনটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবো। আর কাজটা সেগুলোর যে কোন একটিকে গোলে পরিণত করা।’ এই জয়কে গত কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল উল্লেখ করে সাবেক এই স্ট্রাইকার আরো বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন সেট পিসগুলো অনুশীলন করেছি। আমি বলবো জয়সূচক গোলটি আমাদের প্রাপ্যই ছিলো। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা দল যারা কখনোই মনোবল হারায় না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে অভ্যস্ত আমরা। কঠিন একটা লড়াই ছিল এটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে জয় হয়েছে আমাদেরই।’ ম্যাচর শুরুর প্রথম মিনিটেই নিজেদের গুছিয়ে নেবার আগেই ডা. মার্কোস বিসলির পাস থেকে ডিম্পসে গোল ঘানাকে হতবাক করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক গোল এরিয়ার মধ্যে ঘানার ডিফেন্ডার জন বোয়েকে কাটিয়ে বাম পায়ের জোড়ালো শটে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন। যদিও তার এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৩ মিনিটে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে ফরোয়ার্ড জজি আলটিডোর মাঠের বাইরে চলে গেলে কোচ দু:শ্চিন্তায় পড়েন। প্রথমার্ধে ঘানার পক্ষে সেরা সুযোগটি নষ্ট করেন মার্সেই স্ট্রাইকার জর্ডান আইয়েউ। বিরতির পর অবশ্য ঘানাকে বেশ পরিণতই দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডকে অল্পের জন্য পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয় সুলে মুনটারির জোড়ালো শট। এছাড়া অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়ানো আসামোয় গায়ানের দুটি হেডও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ৮২ মিনিটে বাম দিক থেকে গায়ানের একটি ব্যাকহিল থেকে আইয়েউ দারুণ এক গোল করলে ঘানা শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো বাকি। ৮৬ মিনিটে ব্রুকসের হেড যুক্তরাষ্ট্রকে জয় এনে দিলেও ঘানাইয়ানদের হতাশ করেছে। বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের তালিকা নং খেলোয়াড় দেশ প্রতিপক্ষ সন সময় ১. হাকান শুকুর তুরস্ক দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ ১১ সেকেন্ড ২. ভাকলাভ মাসেক চেকোস্ল¬ভাকিয়া মেক্সিকো ১৯৬২ ১৬ সে. ৩. আর্নেস্ট লেহনার জার্মানী অস্ট্রিয়া ১৯৩৪ ২৫ সে. ৪. ব্রায়ান রবসন ইংল্যান্ড ফ্রান্স ১৯৮২ ২৭ সে. ৫. ক্লিন্ট ডেম্পসি যুক্তরাষ্ট্র ঘানা ২০১৪ ২৯ সে.