হারিয়ে যাওয়া না প্রত্যাবর্তন?
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
২৪ বছর! মহাকালের হিসেবে সময়টা খুব কম হলেও বাস্তব জগতের হিসেবে বেশ বড়ই বটে। ঠিক এই সময়টা জুড়ে তিনি সেবা করে যাচ্ছেন কেবল একটি ক্লাবের। ১৯৯০ সালে রিয়ালের লা ফ্যাব্রিকা অ্যাকাডেমিতে যোগ দেয়ার পর থেকে ওটাই তার জগত্।
একসময় হাতে উঠলো অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। জাতীয় দলেও তাই। ক্লাব বলুন আর জাতীয় দল- তার জায়গা নিয়ে কখনো প্রশ্ন এক বছর আগেও ওঠেনি। সদাসর্বদা গোলপোস্টের নিচে জাগ্রত ছিলেন সাধু; সাধু ক্যাসিয়া—ইকার ক্যাসিয়াস।
বিশ্বজয় তো আছেই, এই কদিন আগে ব্রাজিলে আসার আগেও লিসবনে জয় করে এসেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা!
কিন্তু এতো অর্জন আর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো কেবল একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায়। যেই নেদারল্যান্ডসকে চার বছর আগে হারিয়ে বিশ্বকাপ হাতে নিয়েছিলেন ক্যাসিয়াস সেই পার্সি, রোবেনরাই একের পর এক বোকা বানাতে লাগলেন তাকে! সমালোচনার তীর তো আসবেই।
সমালোচকদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনাও, ‘ক্যাসিয়াস ওর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ম্যাচটা খেলে ফেলেছে। অন্তত আমি নিজের জীবনে ওকে এতো বাজে খেলতে আগে কখনো দেখিনি। এর পর থেকেই আমার বন্ধু মরিনহো ওকে নিয়ে যা বলেছিলো সেটা মনে পড়ছে। ও বলেছিল গোলরক্ষক হিসেবে ক্যাসিয়াস যোগ্য লোক নয়। মরিনহো রিয়াল ছেড়ে চলে গেছে; কিন্তু ও যা বলেছিল সেটা এই বিশ্বকাপ দিয়েই সত্যি হয়ে গেল।’ ক্যাসিয়াস অবশ্য ম্যাচের পরই দলের বিপর্যয়ের জন্য সব দায় নিজের কাছে টেনে নিয়ে এসেছিলেন, ‘আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আসলে দোষটা আমারই। ভাগ্যটাও আমাদের জন্য সহায় ছিল না। যাই হোক- যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আর ভাবতে চাইছি না। সামনের ম্যাচের দিকেই দৃষ্টি রাখছি। বাজে পারফরম্যান্সের জের ধরে ক্যাসিয়াসের জায়গায় ডেভিড ডি গিয়া হয়তো আজকের দলেই ঢুকে যেতেন; কিন্তু এখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি। পায়ের ইনজুরির কারণে প্রথম পর্বে ডেভিড গিয়ার সুযোগ পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। তাই ক্যাসিয়াস ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন আজই। আজ মারাকানা স্টেডিয়ামে চিলির বিপক্ষে ম্যাচটা ক্যাসিয়াসের মত স্পেন দলের জন্যও মহাগুরুত্বপূর্ণ। ক্যাসিয়াসও তেমনটাই মানছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই অধিনায়ক বলেন, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য ফাইনাল। সেদিকেই চোখ রাখছি।’
টানা দুইটি ইউরো ট্রফি তুলে ধরা, বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে তার গগনবিদারী চিত্কার আর উল্লসিত গোটা স্পেন—ছবি গুলো কি এখন কেবলই স্বর্ণালী অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকবে? নাকি আবারও পুরনো সেই প্রতাপ নিয়ে ফিরে আসবেন সাধু ক্যাসিয়াস?
ক্যাসিয়াসের ইচ্ছা প্রত্যাবর্তন। ম্যাচের আগে মার্কাকে তিনি বলেন, ‘এখন আমার জন্য সময়টা স্রেফ চুপ করে থাকার। ম্যাচেই সব কিছুর উত্তর আসবে!’