‘ফাইনালের’ জন্য প্রস্তুত স্পেন

মাঠের পারফরম্যান্স বা ফুটবল ঐতিহ্য—কোনটির বিবেচনাতেই বড় কোন দল নয় চিলি। কিন্তু লাতিন আমেরিকান দলটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই আকাশ সমান চাপ নিতে হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের অবিসংবাদিত সেরা দল স্পেনকে। কারণটা হল গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ। ডাচ বিপ্লবের সামনে রীতিমত অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল ভিসেন্তে দেল বক্সের দলকে। ৫-১ গোলে হারের পর আজ চিলির বিপক্ষে ম্যাচটা তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এক অর্থে ‘ফাইনাল’। আজকের ম্যাচে একটু উনিশ-বিশ হলে যে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে ক্যাসিয়াসদের। রিও ডি জেনিরোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে ম্যাচটি। ফাইনাল সেই ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেই মানছে স্পেন। দলের ফরোয়ার্ড পেদ্রো রড্রিগেজ বলছেন, এটা তারা ফাইনালের মতো বিবেচনা করলেও চাপ নিচ্ছেন না, ‘আমার মনে হয় না দুশ্চিন্তার কোন কারণ আছে। একই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে এটাই আমাদের শেষ সুযোগ। এটা আমাদের জন্য ফাইনাল। মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত। এখন ব্যর্থ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। চিলির বিপক্ষে আমাদের দারুণ এক ম্যাচ খেলতে হবে। আমাদের জিততেই হবে।’ ছয় বছর টানা ফুটবল বিশ্বের উপর ছড়ি ঘোরানো, বিশ্বকাপ জয়, টানা দু’টি ইউরোর শিরোপা জয়—সবকিছু ম্লান হয়ে গেল কেবল একটি ম্যাচের কারণে। নেদারল্যান্ডের সামনে জঘন্য পারফরম্যান্সটা এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবারই পাঁচ কিংবা তার বেশি গোল হজম করতে হয়েছিল স্পেনকে। তাও সেটা ৮৪ বছর আগের ঘটনা। ১৯৫০ বিশ্বকাপে এই ব্রাজিলের মাটিতেই স্বাগতিকদের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল ইউরোপিয়ান দলটি। আর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে একমাত্র জয়টি স্পেন পেয়েছিল ৬৮তম র্যাংকিংয়ে থাকা এল সালভাদোরের বিপক্ষে। ওয়াশিংটনে চলতি মাসের শুরুতে সেই জয়টা ছিল মাত্র ২-০ ব্যবধানের। সময়টা সত্যিকার অর্থেই ভাল যাচ্ছে না স্পেনের। এদিকে প্রথম ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পর স্পেন দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেন কোচ দেল বক্স, ‘অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি না। এখানে কেউ একা নয়। কারো দিকে আলাদা করে আমি আঙ্গুল তুলছি না। ২৩ জন খেলোয়াড়কে একত্রেই এই বিপদ কাটিয়ে সমাধানের দিকে পৌঁছাতে হবে।’ গোলপোস্টের সামনে ইকার ক্যাসিয়াসের উপরই আবারও ভরসা রাখবেন কোচ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের পরও তাকে রেখে দেয়ার পিছনে যুক্তি হল, পায়ের ইনজুরির কারণে গ্রুপ পর্যায়ের বাকি সবগুলো ম্যাচের জন্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন ডেভিড ডি গিয়া। জেরার্ড পিকের জায়গায় জাভি মার্তিনেজের ম্যাচ খেলে ফেলার জোর সম্ভাবনা আছে। আক্রমণভাগটা পুরোটাই বদলে যেতে পারে স্পেনের। ডেভিড ভিয়ার জায়গায় পেড্রো আর ডিয়েগো কস্তার জায়গায় আসতে পারেন সেস ফ্যাব্রেগাস। গত কয়েকটি আসরে ‘ফলস নাইন’ পজিশনে বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া ফ্যাব্রেগাসের দিকে এবারও তাকিয়ে থাকবে স্পেন। সদ্য চেলসিতে যোগ দেয়া এই ফরোয়ার্ডও মানছেন ম্যাচের গুরুত্বের প্রসঙ্গটি, ‘আমরা না জিততে পারলে বাড়ি ফিরে যাবো। আর তার ফলাফল হবে ভয়াবহ।’ পুরনো ইতিহাস ঘাঁটলে অবশ্য চিলির বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে খুব একটা ভাবার কথা না স্পেনের। কারণ আগের ১০টি লড়াইয়ে কোনটিতেই দলটির কাছে হারতে হয়নি লা ফুরিয়া রোজাদের। আর বিশ্বকাপের দু’টি ম্যাচেও জয়ী দলের নাম স্পেন। সর্বশেষ গত বিশ্বকাপে ২-১ গোলে চিলিকে হারায় স্পেন। আর প্রথম লড়াইটি হয়েছিল এই মারকানা স্টেডিয়ামেই। ১৯৫০ সালের সেই বিশ্বকাপে জয়ের ব্যবধানটা ছিল দু’গোলের। আর চ্যাম্পিয়ন দলের কাছে হারের ইতিহাসও চিলির জন্য বেশ পুরনো। ১৯৬২ ও ১৯৯৮ সালে তারা হেরেছিল তখনকার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে। কাকতালীয়ভাবে দু’বারই প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল। তবে, এবার স্পেন প্রথম ম্যাচে হেরে যাবার জন্যই সুযোগ আসতে পারে চিলির জন্য। আর প্রথম ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্সেও কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে দলটি। গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ের পর তাদের নজর এখন স্পেনের দিকে। আরতুরো ভিদাল এখনও অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারলে কি হবে, অ্যালেক্সিস সানচেজ তো আছেন। একঝাঁক বার্সা সতীর্থদের বিপক্ষে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় নিশ্চয়ই থাকবেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের আগে তাই এখন চিলির মত দলকেও সমীহ করতে হচ্ছে স্পেনকে। কোচ দেল বক্স যেমন কোন রাখঢাক না রেখেই বলে দিলেন, ‘যেকোন কিছুই ঘটে যেতে পারে। আমি চিলিকে নিয়ে শঙ্কিত।’ আসলে গোটা স্পেনই আছে এমন শঙ্কায়!