মেসি-হিগুয়েইনের নতুন স্বপ্ন
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২১:৫০
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গোলটা করেই জার্সি ধরে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়লো মেসি। ভাবখানা যেন বিশ্বকাপ-টাপ জিতে ফেলেছে। চিত্কার আর থামেই না। মেসির আনন্দের কারণ বোঝা যায়। এই গোলের জন্য তার দীর্ঘকালের প্রতীক্ষা। সেই ২০০৬ সালে সাবিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের পর বছরের হিসেবে আটটা বছর পার হয়ে গেছে, ম্যাচ পার হয়েছে ৯টা, মাঠে সময় গেছে কমবেশি ৫৪৮ মিনিট!
ফলে মেসি এমন উত্সব করতেই পারেন। কিন্তু তার সঙ্গে যোগ দেয়া হিগুয়েইনও কেন অমন উল্লাসে মেতে উঠবেন?
এখানেও ম্যাচ থেকেই ব্যাখ্যা দেয়া যায়। হিগুয়েইনের সঙ্গে ওয়ান-টু করেই গোলটা পেলেন মেসি। হিগুয়েইন নামার পরই আর্জেন্টিনা ছন্দটা খুঁজে পেল।
তবে আপনি যদি ভেতরের খবর জানেন, তাহলে মনে হতে পারে মেসির এই গোলে হিগুয়েইনের বাড়তি আনন্দের একটা কারণ আছে। আগামী মৌসুমে দু’জন যে ক্লাব সতীর্থও হতে চলেছেন!
হ্যাঁ, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দেবেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, বর্তমানে নাপোলিতে খেলা গঞ্জালো হিগুয়েইন। ইতিমধ্যে বার্সেলোনা তাকে কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। নাপোলিও মোটামুটি রাজী। আর হিগুয়েইন নিজে মহা আনন্দিত এই প্রস্তাবে। তিনি তার জাতীয় দল অধিনায়কের সঙ্গে ক্লাবেও খেলতে মুখিয়ে আছেন। আর মেসি নিজেও এবার বলেছেন, বার্সেলোনায় বন্ধু হিগুয়েইনকে দেখতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
বার্সা তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, খবরটা পেয়েই হিগুয়েইন বলেছেন, ‘আমি মেসির সঙ্গে যে কোনো পর্যায়ে খেলতে পারলে আনন্দিত। ওর মতো একজন জিনিয়াসের পাশে খেলার মজাই আলাদা। বার্সেলোনা প্রস্তাব দিয়েছে শুনে আমি খুবই খুশি।’
মেসিও গতকাল অনুশীলনশেষে বলেছেন, ‘আমি পিপিতাকে বার্সায় দেখতে চাই ও আমাদের দলে অনেক বৈচিত্র্য আনতে পারবে। ওর সঙ্গে খেলাটা খুব মজার। তবে এই মুহূর্তে আমরা দু’জনই বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছি।’
হ্যাঁ, হিগুয়েইনও একই কথা বলছেন, তারা বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছেন। সেই ভাবনায় নিশ্চয়ই আনন্দ ও দুশ্চিন্তা পাশাপাশি কাজ করছে।
দুশ্চিন্তা অবশ্যই কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার প্রথমার্ধ্বে ৫-৩-২ ফর্মেশনের দারুণ ব্যর্থতা নিয়ে।
এই ফর্মেশনে আর্জেন্টিনার দুর্বল ডিফেন্স একটু প্রাণ পেলেও ৬৫ আক্রমণনির্ভর আর্জেন্টিনা একদম প্রাণই হারিয়ে ফেলেছিল। মনে হচ্ছিল বসনিয়া নয়, অ্যাওয়ে জার্সি গায়ে ওপাশেই বুঝি আর্জেন্টিনা খেলছে। আর এ পাশে ভুল পাস, শক্ত শরীর, ভার মন নিয়ে এলোমেলো ছুটে বেড়াচ্ছে মেসিরা।
মিডফিল্ড বলে কিচ্ছু ছিল না। ওপরে আগুয়েরো, ডি মারিয়া আর মেসি সমন্বয়হীনভাবে ছুটে বেড়ালেন। ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলই দিতে পারলেন না ফরোয়ার্ড লাইনে। বোঝা গেল এই চরম ডিফেন্সিভ ফর্মেশন আর্জেন্টিনার জন্য নয়। সাবেলা দ্রুত যে সেটা বুঝতে পারলেন এবং ভুল শোধরালেন, এটাই আর্জেন্টিনার প্রথম স্বস্তি।
দ্বিতীয়ার্ধ্বে ফর্মেশন বদলে ৪-৩-৩ করে হিগুয়েইন ও গ্যাগোকে নামানো হল মাঠে। ফলে প্রচুর বল পেতে থাকলেন মেসি-আগুয়েরো ও ডি মারিয়া। পুরো দস্তুর স্ট্রাইকার হলেও বল জোগানও দিলেন হিগুয়েইন। আর এই হিগুয়েন-মেসি জুটিতেই এলো মেসির বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই গোল।
মেসির এই গোল পাওয়াটা শুধু তার একার জন্য নয়, আর্জেন্টিনার জন্যও এক স্বস্তির হাওয়া।
গত আট বছরে এই মেসি নিজে হাতে ফুটবল বিশ্বের মানচিত্র বদলে দিয়েছেন। ট্রফির পর ট্রফি জিতেছেন, টানা চারবার বিশ্বসেরা হয়েছেন, ইউরোপে গোলের বিশ্বরেকর্ড করেছেন। কী করেননি? ২০১০ বিশ্বকাপেও জাদুর পর জাদু দেখিয়েছেন। কিন্তু গোল পাননি। কোথাকার কোন ভিনসেন্ট এনাইমা একা ছয়টা শট ঠেকিয়ে দিয়েছে, পোস্টে বল লেগেছে, বারে লেগেছে, অফসাইড হয়েছে; বিশ্বকাপে গোল হয়নি। অপেক্ষার প্রহর লম্বা থেকে লম্বা হয়েছে।
অবশেষে মেসি গোল পেলেন, হিগুয়েইন-আগুয়েরোর সঙ্গে জুটিটা জমলো। মজার ব্যাপার হল, আগুয়েরোও বার্সেলোনায় আসছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তাহলে কী বার্সার নতুন আক্রমণভাগ বিশ্বকাপেই অনুশীলন সেরে নিচ্ছে!