সাজা শেষে ৩২ জনকে
ফেরত দিল মিয়ানমার
টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২১:৫৬
অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাত্রা
বিভিন্ন সময়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে মিয়ানমার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক ১৭ রোহিঙ্গাসহ ৩২ বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর (বিজিবি) কাছে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার ইমিগ্রেশন। গতকাল মঙ্গলবার সাড়ে ১১টায় মিয়ানমারের মংডু শহরে অভিবাসন কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সাজা শেষ হওয়ায় তাদের ফেরত দেয়া হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১৭ জুন সকাল সাড়ে আটটায় ৪২ বিজিবির টেকনাফ সদর বিওপির কোমপানি কমান্ডার সুবেদার মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সদর বিওপির জেটি দিয়ে মিয়ানমারের মংডু শহরের বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অপরদিকে ১০ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের স্টাফ অফিসার ইউ থান থুং লে।
বৈঠক শেষে দুপুরে মিয়ানমারে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা শেষে রোহিঙ্গাসহ ৩২ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দুপুর দেড়টায় তাদের নিয়ে টেকনাফ বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি পৌঁছে।
ফেরত আসাদের মধ্যে উখিয়া কতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ১২ জন, টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ৫ জন, টেকনাফ উপজেলার ৯ জন, মহেষখালীর ২ জন, চকরিয়ার ২ জন ও কক্সবাজার সদরের ৩ জন রয়েছেন।
২৮ মাস মিয়ানমার কারাগারে মানবেতর জীবন শেষ করে ফেরত আসা টেকনাফ চৌধুরী পাড়ার মোঃ সেলিমের ছেলে শফিউর রহমান (১৬) বলেন, ২০১১ সালে মানবপাচার চক্রে খপ্পরে পড়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে ৮৮ যাত্রীসহ বিকল ট্রলারটি আটক করে মিয়ানমার নৌ-বাহিনী। পরে মিয়ানমার প্রশাসন তাদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়।
তিনি আরো জানান, মিয়ানমার কারাগারে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলাম। আমরা ওইখানে খুব বেশি কষ্টে ছিলাম। সেই দেশের কারাগারে আরো অনেক বাংলাদেশি মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এসময় ফেরত আসা আরো কয়েকজন বলেন, গত দুই বছর আগে প্রলোভনে পড়ে রোহিঙ্গাসহ ৮৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলারে করে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করেছিলাম। তিন দিন পর ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে বিকল হয়ে যায়। পরে ট্রলারটি ভেসে মিয়ানমার তীরে চলে যায়। এসময় মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর হাতে আমরা আটক হই।