কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মোদী সরকারের মন্ত্রীরা

ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দর্শনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে -‘মন্ত্রী কম, কাজ বেশি’। তার এই দর্শন সরকারের আর্থিক খরচ কমানো এবং কাজের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখলেও মন্ত্রীদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘন্টা কাজ করেন। তার আশা, তার মন্ত্রীসভার ৪৪ সদস্যও একইভাবে কাজ করবেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এরইমধ্যে তারা বন্ধুদের কাছে কাজের চাপের বিষয়টি সম্পর্কে বলাবলি করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী একজন ‘নাছোড়াবান্দা’ বলেও অনেক মন্ত্রী মন্তব্য করছেন। মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, সবার ভয়ে থাকতে হয় সকালে কখন অফিসে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন। এই চিন্তায় খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কিন্তু মধ্যরাতের আগে কেউ ঘুমাতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত দশ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল না। এর ফলে আগে দলটির নেতা-কর্মীদের খুব একটা ব্যস্ততা ছিল না। অনেক নেতা সারাদিন আরাম আয়েশ করে দুপুরের পর দলীয় কার্যালয়ে যেতেন। দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পর জীবনযাপনে এখন ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ৬৭ বছর বয়সী মন্ত্রী রাম বিলাস পবনকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হচ্ছে। কিছুদিন ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। যদিও ইতোমধ্যে অনকেটা মানিয়ে নিয়েছেন। পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি যখন দলের সভাপতি ছিলেন তখনো তিনি রাতের খাবারের আগে পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সভা করতেন। সেই গড়কড়িকে এখন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হচ্ছে এই ভয়ে যে অফিসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ফোনটা ধরতে হবে। গড়কড়ির মতো নগর উন্নয়নমন্ত্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু, মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী নিরমলা সীতারামও একই সমস্যায় আছেন। এদের প্রত্যেকের ভাগে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পড়েছে। মন্ত্রীদের পাশপাশি সরকারি কর্মকর্তাদেরও কাজের চাপ বেড়ে গেছে। ভারতে এই ধরনের কাজের চাপ ছিল ১৯৭৫ সালে ইন্দরা গান্ধীর শাসনামলে জরুরি অবস্থার সময়। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে লোকসভার বাজেট অধিবেশন বসবে। এর আগে মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে মনে করছেন বিজেপি’র নেতৃবৃন্দ। এরফলে অনেক মন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগ হয়ে যাবে। কমে আসবে কাজের চাপও।