ভোগ্যপণ্যের মজুদ ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থা তত্পর
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:০৭
রমজানকে সামনে রেখে কেউ যেন ভোগ্যপণ্য মজুদ করে মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তত্পর বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত দুটি পৃথক প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী যাতে ভোগ্যপণ্য মজুদ করতে না পারে সেদিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহকে অনুরোধ করা হয়েছে। সকল স্তরের ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নিয়মিতভাবে দ্রব্যমূল্য ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্পর্কিত সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার সবসময় সচেষ্ট। গত ৩১ মার্চ ও ৯ জুন তিনি (বাণিজ্যমন্ত্রী) ব্যবসায়ীসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে এনিয়ে সভা করেছেন। সেখানে ব্যবসায়ী নেতারা রমজানে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া মূখ্য সচিবের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও গত ৪ মে এনিয়ে একটি সভা হয়েছে।
ভারতে উত্পাদন কম হওয়ায় আদার দাম বেশি
ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লার এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ সংসদকে জানান, দেশে আদার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ২৭ শতাংশ পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। বাংলাদেশে প্রধান আদা রপ্তানিকারক দেশ ভারতে এবছর আগের বছরের তুলনায় অর্ধেক আদা উত্পাদিত হয়েছে। ফলে ভারতে বর্তমানে আদার মূল্য বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও আদার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায়, পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন নেপাল ও মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি করে এর মূল্য স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।
চার বছরে ১০ লাখ ৭৩ হাজার কেজি ফরমালিন আমদানি
বেগম সানজিদা খানমের (মহিলা আসন-২৪) এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, ফরমালিন প্রধানত: গবেষণার কাজে বিভিন্ন হাসপাতাল, ল্যাবরেটরী ও ওষুধ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন কোনো এজেন্টের মাধ্যমে আমদানি হয় না। ওষুধ কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২০০৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চার অর্থবছরে ১০ লাখ ৭৩ হাজার কেজি ফরমালিন আমদানি করেছে।
নরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খানের খাদ্যপণ্যে ফরমালিনের ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, ফরমালিন আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার ‘ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৪’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যে পাঁচটি পর্যবেক্ষণসহ আইনটির খসড়া নীতিগত অনুমোদন করেছে। আইন মন্ত্রণালয়েও এর ভেটিং শেষ। অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে।
ত্রি-পক্ষীয় ট্রানজিট চুক্তি হবে
পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ সংসদকে জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমানে কোনো ট্রানজিট চুক্তি নেই। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি হয়। তবে এ সংক্রান্ত অপারেটিং মডালিটিজ না থাকায় চুক্তিটি কার্যকর হয়নি। ভুটানের সঙ্গে ১৯৮০ সালে একটি ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর মেয়াদ ২০০০ সালে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপ-আঞ্চলিক ভিত্তিতে ত্রি-পক্ষীয় (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ও বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান) চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে এর কার্যক্রম চলছে। এলক্ষ্যে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা শিগগিরই দিল্লীতে হওয়ার কথা। তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে ত্রি-পক্ষীয় ট্রানজিট চুক্তি প্রণয়নের ও সম্পাদনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।