সীমান্তপথে অবৈধভাবে আসছে ফরমালিন
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:১২
কঠোর শর্ত আরোপের মধ্যেও বৈধ ও অবৈধ পথে বছরে প্রচুর ফরমালিন আনা হচ্ছে দেশে। দেশে বিভিন্ন শিল্প কারখানা, ল্যাবরেটরীতে ফরমালিন ব্যবহার হয়ে থাকে। বছরে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মেট্রিক টন ফরমালিন আমদানি হচ্ছে। এর বাইরে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রচুর ফরমালিন দেশে আনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফরমালিন আমদানির জন্য কেউ অনুমোদন নেয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ফরমালিন আমদানি করা যায় না। কিন্তু চলতি অর্থবছরে কি পরিমাণ ফরমালিন আমদানি হয়েছে তার কোন হিসাব কাস্টমসে পাওয়া যায়নি। কাস্টমস সূত্র জানায়, গত তিন মাসে বন্দর দিয়ে কোন ফরমালিন আমদানি হয়নি। ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসব ফরমালিন দেশে আনছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। যত্রতত্রভাবে কাঁচা ফল ও মাছে এসব ফরমালিনের ব্যবহার চলছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে কি পরিমাণ ফরমালিন আমদানি হয়েছে তার কোন রেকর্ড নেই কাস্টমসে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারি কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে যোগদানের পর গত তিন মাসে বন্দর দিয়ে কোন ফরমালিন আমদানি হয়নি। ফরমালিন আমদানি করতে শর্ত সাপেক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। দেশে ফরমালিন কিভাবে আসছে তা দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।’
সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মিশর, জার্মান, স্পেন, সৌদিআরব, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে ফরমালিন আমদানি হয়ে থাকে। আমদানির ক্ষেত্রে কঠিন শর্তারোপের কারণে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ফরমালিন আনছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী।
কাঁচা ফল ও মাছে ফরমালিনের ব্যবহার হচ্ছে। ফল ব্যবসায়ীদের এখন ভরা মৌসুম। বন্দর হয়ে বিদেশ থেকে ও উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রচুর মৌসুমী ফল চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে খুচরা ছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক পাইকারি ফল ব্যবসায়ী রয়েছে। ফলে ফরমালিনের ব্যবহার নিয়ে আতংকের কারণে ফল ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে। বেচা-কেনা কম হওয়ায় নগরীর দু’টি প্রধান পাইকারি বাজারে বেচা-কেনা কমে গেছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, ‘ফরমালিন নিয়ে প্রচারণায় ৫০ শতাংশ ব্যবসা কমে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। তবে ফরমালিন আতংক কয়েকদিনের মধ্যে কেটে যাবে।
এদিকে মাছে ফরমালিনের ব্যবহার নিয়ে অনেক আগে থেকে অভিযোগ রয়েছে। বোট মালিকরা জানান, সাগরের মাছে ফরমালিনের ব্যবহার হচ্ছে না। যেসব মাছ ভারত ও সাতক্ষীরা থেকে আনা হচ্ছে তাতে ফরমালিনের ব্যবহার হতে পারে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতা চৌধুরী মাঝি ইত্তেফাককে বলেন, ‘সাগর থেকে আহরিত মাছ সরাসরি আড়তে বিক্রি করা হয়। তারপর খুচরা বাজারে চলে যাচ্ছে। এতে ফরমালিন মেশানোর কোন প্রয়োজন নেই। সাতক্ষীরার প্রজেক্টের মাছ অথবা কোল্ড স্টোরে মাছ দীর্ঘদিন রাখা হয়। হয়তো তাতে ফরমালিন ব্যবহার হতে পারে।’