নকল ধরায় ইবিতে পরীক্ষা বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:১৪
দলীয় কর্মীর কাছ থেকে নকল উদ্ধার করায় ভাংচুর করে পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ভাংচুরের সময় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের ৩০২নং কক্ষে বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের ৩০৫ নাম্বার কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। প্রায় আধা ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুল হক নাহিদ ও উজ্জল কুমারের কাছে নকল পাওয়ায় তাদের খাতা নিয়ে নেন দায়িত্বরত শিক্ষক তপন কুমার রায়। এসময় তাদের খাতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. রহমান হাবিবের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সুপারিশ ও হুমকি আসতে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগীয় সভাপতি ড. রহমান হাবিব তাদেরকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন। এসময় ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুজার গিফারি গাফ্ফার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভাগীয় সভাপতির কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতি তাদের পরীক্ষা নেয়ার অপারগতা প্রকাশ করলে যুগ্ম আহবায়ক আবুজার গিফারি গাফ্ফার তার কর্মীদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে না বলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে পরীক্ষার হল থেকে বিতাড়িত ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা সংগঠিত হয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকে ভাংচুর শুরু করে। ভাংচুরের সময় নাঈম, সেতু, সিহাব ও হাফিজসহ ৫/৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
এসময় খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবহিত করেছি, তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন’।
বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. রহমান হাবিব বলেন, ‘অপরাধীদের খাতা বাতিল করা হয়েছে। ভাংচুরের পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে আমরা পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার পরীক্ষা বন্ধ রাখার কথা বললে ৩০৫নং কোর্সের পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে পরবর্তীতে সাধারণ সকল শিক্ষার্থী এই কোর্সে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু ঐ দুই শিক্ষার্থী যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা এই কোর্সের মানোন্নয়নও দিতে পারবে না’।
এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুজার গিফারি গাফ্ফার বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের ওই কর্মীর হয়ে বিভাগীয় সভাপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি, তিনি আমাকে সমস্যার কথা বললে আমি চলে এসেছি। পরে সেখানে বিভাগীয় শিক্ষার্থীরা কি করেছে তা আমি জানি না’।