গল্প নয় সত্যি

ফুটবলের আড়ালে...

গোটা দুনিয়া জুড়েই এখন চলছে ফুটবলের উন্মাদনা। আর ফুটবল বিশ্বকাপের এই সময়টিতে কোনো ব্যক্তি যদি জেলের বাইরে থেকে একটি ফুটবল জেলের ভেতর কোনো কয়েদিকে উদ্দেশ্য করে ছুড়ে মারেন তাহলে সেটিকে হয়তো ভয়ংকর কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মূলত এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে আর ফুটবল উন্মাদনার সুযোগ নিয়েই সম্প্রতি আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি জেলের বাইরে থেকে জেলের ভেতরে থাকা কয়েদিদের উদ্দেশ্য করে ফুটবলের ভেতরে বিশেষ উপায়ে লুকানো মাদকদ্রব্য আর সেলফোন পাচারের চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। তবে জেলের ভেতরে যে অংশে কয়েদিরা অনুশীলন করেন বলটি সেখানে না পড়ে দুই সীমানা প্রাচীরের মাঝের অংশে পড়ার কারণেই তাত্ক্ষণিকভাবে সেটি চোখে পড়ে কারারক্ষীদের। এ সময় সাথে সাথে তারা গ্রেপ্তার করেন বল ছুড়ে মারা ব্যক্তিটিকেই। তবে প্রথম দিকে বিষয়টিকে কয়েদির খেলার সুযোগ করে দেওয়ার মতো একটি মামুলি বিষয় বলেই ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু পরে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বলটি পরীক্ষা করতে যেয়েই সাধারণ বলের সাথে জেলের ভেতরে ছুড়ে মারা বলটির ওজন ও আরও কিছু বিষয়ে পার্থক্য চোখে পড়ে। পরবর্তীতে বলটির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় হিরোইন, মারিজুয়ানা ও তামাকের মতো মাদক। এ ছাড়া জেলের ভেতরে থাকা কয়েদিরা যেন অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন সেজন্য ফুটবলের মধ্যে করে তিনটি সেলফোনও তাদের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মিশিগানের জি. রবার্ট কটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটি নামের এই কেন্দ টির একজন মুখপাত্র জানান, বলটি যদি দু’টি সীমানা প্রাচীরের মাঝে না পড়তো এবং তারা যদি বল ছুড়ে মারা ব্যক্তিটিকে দেখতে না পেতেন তাহলে হয়তো ফুটবলটিকে কারাগারের মধ্যে দেখে তাদের মনে সন্দেহও হতো না। কারণ কয়েদিদের নিজেদের খেলার জন্যও এ ধরনের ফুটবল দেওয়া হয় এবং ফুটবল উন্মাদনার সময় এ ধরনের একটি ফুটবল অনুশীলন মাঠে থাকতেই পারে।