অস্তিত্ব সংকটে বেদে সম্প্রদায়

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ডেফলাই গ্রামের বেদে সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলছে। এ বেদে পল্লীতে ৭০টি পরিবারের প্রায় ৭শ বেদের বসবাস। আদিপেশা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে এসব বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। বেদে সম্প্রদায়ের লোকদের অভাব-অনটন দুঃখ আর দুর্দশা যেন তাদের নিত্য সাথী। অতীতে এ পেশার উপর নির্ভর করে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। সমাজেও তারা এত অবহেলার পাত্র ছিল না। এক সময় তারা নৌকাযোগে সারা দেশের নদ-নদী গুলোতে অবস্থান করত; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদ-নদী গুলো ঐতিহ্য হারানোর কারণে তারা এখন ডাঙ্গায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বেদে সর্দার মোছন আলী জানান, এখানে তাদের লোকজন অতিকষ্টে জীবন-যাপন করছেন। ৭০টি পরিবারের মধ্যে অনেকেই ১/২ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও অর্থের অভাবে বাসস্থান তৈরি করতে পারছে না। অনেক পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পেটভরে দুই বেলা দুই মুঠো ভাত খেতে পারে না। তাদের যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। পল্লীর মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি ঝরনা। এ ঝরনা বেদে পল্লীকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। এছাড়া তারা ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্কভাতা ও বিধবা ভাতাসহ সরকারি কোন অনুদান পায় না। শিক্ষার অভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে নেই তাদের কোন ধারণা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবারের ৫ থেকে ১২ জন পর্যন্ত সন্তান। এটিও অভাবের অন্যতম একটি কারণ। অর্থ সংকটের কারণে তারা কোন পেশা বেছে নিতে পারছে না। তাই জীবিকার প্রয়োজনে বছরের বেশি সময় থাকতে হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।