লালমাই-ময়নামতি পাহাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি

ঐতিহ্যবাহী লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এখন প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যত্রতত্র পাহাড় কর্তনের ফলে নষ্ট হচ্ছে পাহাড়ের চারপাশের পুরানো সেই নান্দনিক সৌন্দর্য্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমেই রাতে-দিনে চলে পাহাড়ের মাটি কাটাসহ লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি। বিশেষ করে পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের দক্ষিণ কাচার এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাতেরবেলায় পাহাড় কেটে দিনে-দুপুরে মাটি বিক্রির মহোত্সব চলছে। অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটার ফলে লালমাই পাহাড়ের বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক্টর নির্বিঘ্নে উঠানামার জন্য পাহাড় সংলগ্ন বাঁধ কেটে ফেলায় স্থানীয় কৃষকরা আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ী ঢলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন। স্থানীয়ভাবে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা-লালমাই পাহাড়ের পশ্চিমাংশে পাহাড় কাটা বন্ধ থাকলেও গত ২/৩ সপ্তাহ যাবত্ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া সংলগ্ন লালমাই দক্ষিণ কাচার এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি শুরু করেছে মাটি ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট। জানা যায়, জাঙ্গালিয়া গ্রামের আবদুল মালেক প্রভাবশালী লোকদের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে পাহাড়ের মাটি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি প্রতি রাতেই পাহাড়ের পশ্চিমাংশের ৩৯২৫ দাগের টিলার মাটি কেটে নিয়ে জাঙ্গালিয়া কবরস্থানের নিকট রেখে দিনেরবেলায় ট্রাক্টরযোগে ওই স্থান থেকে ক্রেতাদের নিকট মাটি পৌঁছে দিচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি ট্রাক্টর মাটি ১ হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। মাটি বহনকারী ট্রাক্টর পাহাড়ী রাস্তা বেয়ে উঠা-নামার ফলে বর্ষার ঢল থেকে রক্ষার জন্য ওই এলাকায় সরকারিভাবে নির্মিত বাঁধটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ নষ্ট হওয়ার কারণে আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ী ঢল নেমে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন এলাকার কৃষক ও সাধারণ লোকজন। পাহাড়ের অন্যান্য অংশেও একইভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মহোত্সব চালাচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। এলাকাবাসী পরিবেশ বিপর্যয় রোধের পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশের বাড়ি-ঘর ও ফসল রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, আগে পাহাড়ের মাটি কাটা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও এখন আর তেমনটি দেখা যায় না। এতে পাহাড়ের মাটিদস্যুদের কবলে পড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ছায়াঘেরা এ পাহাড়টির অবকাঠামো ও ঐতিহ্য ক্রমে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেকান্দর আলী জানান, ‘পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব। কেউ পাহাড় কেটে মাটি বাণিজ্য করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে অবহিত করবো।’ পরিবেশ অধিদফতর-কুমিল্লার সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি জানান, ‘এখন আমি ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে আছি। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আইন লংঘন করে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’