বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার মামলার বিচার শুরু ১৬ জুলাই

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ধস মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠিত হয়েছে। আদালত আগামী ১৬ জুলাই থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে আদালত এ মামলার চার্জশিটের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের নারাজি ও পুনঃতদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মুজিবুর রহমান এসব নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর নগরীর চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শহীদুল ইসলাম আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট থেকে এজাহারভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ১৮ জনকে বাদ দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার অ্যান্ড পারিশা ট্রেড সিস্টেমের ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন, সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ইসলাম, সাইট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জলিল, আমিনুর রহমান, আবদুল হাই, মো. মোশাররফ হোসেন রিয়াজ ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলী। এছাড়া রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যার নাম এজাহারে ছিল না। আসামিরা সকলে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। এদিকে অভিযোগপত্রে সিডিএ কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীদের নাম বাদ দেয়ায় নারাজি জানিয়ে পুনরায় এ মামলা তদন্তের আবেদন জানান মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী। গতকাল বুধবার শুনানি শেষে আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেয়। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর নগরীর বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ভেঙ্গে পড়ে ১৩ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। এ ঘটনায় সিডিএর তিন কর্মকর্তা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার অ্যান্ড পারিশার ১০ কর্মকর্তা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএআরএম অ্যাসোসিয়েটস এর ১২ কর্মকর্তাসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এসআই আবুল কালাম আজাদ। চার্জশিট থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী এএম হাবিবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী তানজিব হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া মীর আক্তারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকসহ তিনজন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মতিনসহ ১২ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।