১০ সহস্রাধিক নার্স বেকার বয়স শেষ এক হাজারের
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৪, ২২:১৭
ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেও দেশের ১০ হাজারেরও বেশি সিনিয়র স্টাফ নার্স দীর্ঘদিন ধরে বেকার। এদের মধ্যে এক হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্সের সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। ডিগ্রি অর্জন করার পরও চাকরি না পেয়ে হতাশ এই নার্সরা। এদিকে, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনিয়র স্টাফ নার্সদের চাকরিতে যোগদানের সময় পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীর হবে বলে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর নার্সরা সেই অনুয়ায়ী আর্থিক সুযোগ সুবিধা পেতে শুরু করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর শুরু হয় আরেকটি জটিলতা। সেটি হল নতুন নার্স নিয়োগ ও তাদের পদোন্নতির বিষয়টি। যা গত পাঁচ বছরেও সমাধান হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা নানা অজুহাতে এই জটিলতা জিইয়ে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালাটি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ফাইলটি যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু বিধিমালার ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। কবে ফাইলটি ছাড়া পাবে এর উত্তর দিতে পারেনি কেউ। নিয়োগ বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় নতুন করে নার্স নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেবা পরিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মিসেস তাসলিমা বেগম বলেন, নার্সিং কলেজের শিক্ষকদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ নার্স নিয়োগের বিধিমালাটি প্রায় চূড়ান্ত। নার্সদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীর হওয়ায় তাদের নিয়োগ হবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে, এটাই নিয়ম। এক্ষেত্রে নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এডহক ভিত্তিতে ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েক’শ নার্সের সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের নিয়োগ দেন। আর একসঙ্গে এত নার্স অতীতে কখনো নিয়োগ হয়নি। তিনি বলেন, আরো দুই হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এবারও বয়সোত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতের মতো উদারতা ও আন্তরিকতা দেখাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিধিমালা না হওয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, নার্সদের পদমর্যাদা বাড়ুক তা একশ্রেনীর কর্মকর্তারাই চান না। তারা নার্সদের বঞ্চিত করে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ে কতিপয় কর্মকর্তা আলোচিত দালালদের মাধ্যমে নানা ধরনের বাণিজ্য করে আসছে বছরের পর বছর।
জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার থেকে সেবা পরিদপ্তরের অধীনে ২০৩ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যে ওই দালালদের মাধ্যমে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দালালদের নিজস্ব লোক ওই নিয়োগ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিস্টরা বলেন, চিকিত্সা সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন নার্সরা। হাসপাতালে চিকিত্সক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে এ ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীকে চিকিত্সা সেবা প্রদানসহ তার তদারকি, খোঁজ-খবর নেয়ার সব দায়িত্ব নার্সদের উপর বর্তায়। রোগী অনুপাতে সরকারি হাসপাতালে নার্সদের সংখ্যা অনেক কম। বেকার ১০ হাজার নার্স একসঙ্গে নিয়োগ দিলেও দেশের নার্সদের চাহিদার সম্পূর্ণ মিটবে না বলে জানিয়েছেন রাজধানীর আটটি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, নার্স সংকট থাকায় প্রতিদিন রোগীদের চিকিত্সাসেবা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে। এতে রোগীদের চিকিত্সা সেবা ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ হলো নার্স সংকট।
সেবা পরিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে এমপিএইচসহ উচ্চতর ডিগ্রিধারী কয়েক’শ নার্স রয়েছেন। তারা সেবা পরিদপ্তর কিংবা নার্সিং কলেজে শিক্ষকতাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু তাদের কোন পদোন্নতি নেই। তারা চাকরিতে যোগদানের সময় যে পদে ছিলেন এত বছরেও সেই পদেই দায়িত্ব পালন করছেন। নার্স ছাড়া সকল পেশার কিংবা ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হলেও নার্সিং পেশা থেকে যাচ্ছে অবহেলিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে এই পেশার মানোন্নয়ন কিছুটা হয়েছে বলে তারা জানান।
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহানা খানম ইতি ও মহাসচিব ফারুক হোসাইন চলমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বেকার নার্সদের নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।