গডফাদারদের লালন করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভি বলেছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে গডফাদারদের লালন করা হচ্ছে। আর এমনটা চলতে থাকলে দেশের চিত্র পাল্টাবে না। দুইদিন পরে আমার লাশও শীতলক্ষ্যার জলে পাওয়া যেতে পারে। তবে আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নগর পরিস্থিতি: নারায়ণগঞ্জের নগর শাসন পুনর্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. সুলতান হাফিজ রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গবেষণার উপর আলোকপাত করেন ‘নগর পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০১৩’ গবেষণা সমন্বয়কারী ড. ফেরদৌস জাহান। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও কাজী নিয়াজ আহমেদ। আইভি বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে নগর সরকারের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতার কারণেই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবুও আমরা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন করার আগে সরকার কোন স্টাডি করেনি। শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্যই এই রকম হুটহাট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অগোছালো করপোরেশনের কারণেই আমরা নগরবাসীকে সঠিক সেবা দিতে পারছি না। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কেন্দ্রে এখন একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন হলে উন্নয়ন আপনা থেকেই হবে। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, পুলিশ এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী করপোরেশনের জায়গা দখল করে বাণিজ্য করছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আমি মেয়রের হাতে সকল ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার দাবি জানাই। তিনি বলেন, রাজউক হচ্ছে সব সরকারের আশা পূরণের প্রতিষ্ঠান। রাজউকের চেয়ে বড় ভূমিদস্যু বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি আর নেই। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ হচ্ছে জমির ব্যবসা করা। ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন শাসন কাঠামো গড়ে উঠেছে। লক্ষ্মীপুর এবং ফেনীর দিকে তাকালে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। পরিবার নিয়ন্ত্রিত সরকার বিভিন্ন এলাকায় চলছে। এটা থেকে বের হওয়ার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। গবেষণায় বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ শহরের জমির ৪১ ভাগ আবাসিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে। আছে ২ হাজারের বেশি কলকারখানা। খেলার মাঠ এবং সোশ্যাল স্পেস কমে যাচ্ছে। এই শহরের জমির বেশিরভাগ ব্যবহূত হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে। তবে এটা হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে।