সহজিয়া জীবনের দার্শনিক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৪, ১৯:৩৬
সরদার ফজলুল করিম আর নেই। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই বৈচিত্র্যে ভরপুর। বৈপ্লবিক আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে চাকরি ছেড়েছেন, জীবনের সকল চাওয়া-পাওয়াকে তুচ্ছ করে আজীবন জড়িয়ে থেকেছেন আন্দোলন-সংগ্রামে। চার বার কারাবন্দি হয়েছেন তিনি। জীবনের ১১টি বছর বন্দি অবস্থায় ছিলেন। মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে, সমাজ থেকে উঁচু-নিচু বৈষম্য দূর করতে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন করতে রাজপথে লড়েছেন। সরদার ফজলুল করিম একাধারে বাংলা একাডেমিতে চাকরি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন। এরপর কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ শুরু করেন। সে এক বিস্ময়কর ও বিপুল বৈচিত্র্যে ভরা জীবন। তাঁর চিন্তা আর জীবনযাপন ছিল একই সুতোয় গাঁথা। বিলাসবর্জিত একটি সুন্দর জীবন, নানা সমস্যাসংকুল অবস্থায় কাটিয়েছেন তিনি। তবুও জীবন নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ বা অপ্রাপ্তি নেই। বরং মনে করেন, তাঁর জীবনের পুরোটাই লাভ। ফজলুল করিমকে তাঁর জীবন বা আত্মজীবনী নিয়ে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন—‘‘আত্মজীবনী’ কথাটার মধ্যে হয়তো কিছু অহংবোধের ব্যাপার থাকে। তাই আত্মজীবনী বলার সাহস আমার নেই। কিন্তু জীবন তো, যে জীবন পাঁচটা মানুষকে দেখেছে, পাঁচটা কালকে দেখেছে, তার কথা বলার দায়িত্ব তো সে অস্বীকার করতে পারে না।’ তিনি নিজের বিদ্যা ও বুদ্ধিকে পণ্যময় করে তোলার প্রচেষ্টা থেকে সবসময়ই বিরত থেকেছেন। কারণ, তিনি যে দর্শনে বিশ্বাসী তা শুধু ‘উন্মাদের ভবিষ্যদ্বাণী বা দুর্বলচিত্তের আত্মসান্ত্বনা’ নয়। তিনি সত্যি সত্যিই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ‘জীবন মাত্র একটা :লড়াইয়ের হোক সে জীবন’! দীর্ঘদিন লড়াকু জীবন কাটিয়ে শরীরে যখন ভাটা পড়লো তখন লেখালেখিকে নিলেন লড়াই-সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে। এদেশের সাংবাদিকতা এবং লেখালেখিতে একটি বিশাল জায়গা দখল করে আছেন তিনি। দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন প্রচুর। এই বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার অমৃতকথা আমরা তাঁর রচনায় দেখতে পাই। তাঁর রচনায় শুধু নয়, ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যেও এ ব্যাপারটি কত বিচিত্রভাবেই না সত্যি হয়ে উঠেছে! দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
তাঁর ‘আমার বাবা’ শিরোনামে ১৯৮৫ সালে যে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেছিলেন, সেখানে মনোজগতের কিছুটা পরিচয় হয়তো পাওয়া যায়। আত্মকথনের বদলে পিতৃস্মৃতি অবলম্বন করায় সহজভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে, বেশ কিছু কথা তিনি বলেছিলেন। তাঁর কিছু অংশ তুলে ধরছি—‘১৯৪৮ সালের সেই দিনটিতে বাবা যখন জানতে পারলেন, তার সেজ ছেলে ইউনিভার্সিটির চাকরি ছেড়ে দিয়েছে, ‘‘পাগল হয়েছে’’ সেদিন তাকে এই পাগলামির পথ থেকে ফিরিয়ে নিতে এসেও সেই ছেলেটিকে ‘‘চল, আমার সঙ্গে বাড়ি চল’’—এই কথাটি বাদে আর কোনো কথা বলতে পারেননি। আর এই কথাটি বলেই তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। আমাকে বুকের মধ্যে, তার কৃশ দেহের সঙ্গে এক করে ফেলেছিলেন, তার চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়ছিল। দুঃখের পানি। আফসোসের পানি। তার এই ছেলেটি এমন কেন! হয়তো আমাকে বারকয়েক জিগ্যেস করেছিলেন : ‘বল, তুই কী করবি? বল, তুই কী করবি?’ কিন্তু আমার মুখ থেকে সেদিন একটি কথাও বেরোয়নি। কী কথা আমি বাবাকে বলবো। আমি কি বাবাকে রাজনীতির কথা বোঝাবো? বোঝাবো, এই পাকিস্তানের স্বাধীনতা আসল স্বাধীনতা নয়। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব না হলে শ্রমিক কৃষকের দুঃখ যাবে না। না, এমন বলার দুঃসাহস আমার ছিল না। বাবা জানতেন তার ছেলেটি সব সময়েই শান্ত এবং শিষ্ট। আজ কেবল শান্ত এবং শিষ্টই নয়, আমি পাথরের মতো নির্বাক রইলাম। নিঃশব্দ রইলাম। বাবা আমার হাত জড়িয়ে ধরলেন। যেন তিনি জীবনেও এই স্নেহের বন্ধন থেকে আমাকে মুক্তি দেবেন না। ... যেভাবে সেদিন বাবার কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম তাকে সাহস বলবো কিংবা পাষণ্ডতা, তা আমি জানিনে। কেবল বুঝতে পারছিলাম, আমি আমার জীবনের সবচাইতে বড় সংকটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। ভাষা দিয়ে, বক্তৃতা দিয়ে এই দুর্জয় স্নেহের বন্ধনকে আমি ছিন্ন করতে পারবো না। কেবল অপেক্ষা করলাম। কখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে এবং বাবা কখন খানিক ক্ষণের জন্য আমাকে ছেড়ে দেন। তাই যখন দিলেন, তখুনি নিঃশব্দে জঙ্গলঘেরা সেই আশ্রয়ের চারপাশে ঘনীভূত অন্ধকারের সঙ্গে আমি মিশে গেলাম।’
সরদার ফজলুল করিম আসলেই ঘনীভূত অন্ধকারের সঙ্গেই মিশে গেলেন। আর তাঁর চলে যাওয়ায় আমিও অনেকের মতো নির্বাক হয়ে রইলাম। যখন প্রথম দেখা করি তাঁর সাথে তাঁর বাসায়, আমি অবাক হই। কারণ, তাঁর সাথে কথা বলেই মনে হলো আমি এক অন্য জগতে, এক জীবনঘনিষ্ঠ, এক নক্ষত্রের দেখা পেলাম। তাঁর লেখা বইগুলো পড়ে যতটা আনন্দ ও উত্সাহ আমি পেয়েছি, সরদার ফজলুল করিমের কাছে গিয়ে আরও বেশি অনুপ্রাণিত ও অবাক হয়েছি।
একজন মানুষ এতটা নির্মোহ, এতটা সত্, এতটা জ্ঞানী হতে পারেন! এখন ভাবতেই অবাক লাগে, সরদার ফজলুল করিম বিহীন বাংলাদেশে আমি আছি। বাংলাদেশ আছে সরদার নেই। জীবনোপলব্ধির আলোকময় ভুবনে সরদার ফজলুল করিম ছাড়া আর কে প্রবেশ করতে পারেন! তাঁর জীবন শুধু ব্যক্তির ইতিহাস নয়, বাংলাদেশের, আদর্শের, সত্যের, জ্ঞানের, দর্শনের ইতিহাস। বামপন্থার সাথে সরদার ফজলুল করিমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল পঞ্চাশের দশকের সূচনাকাল থেকে। তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি এবং পার্টির প্রতি প্রশ্নাতীতভাবে অনুগত। তিনি সেই সময়ে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা অর্জনের সব ধরনের সুযোগ তুচ্ছ করে বিপ্লব সাধনের মন্ত্রে মুগ্ধ ছিলেন। সে মন্ত্রই তিনি আজন্ম লালন করেছেন। তাঁর জন্ম ১৯২৫ সালের পহেলা মে বরিশালের আঁটিপাড়া গ্রামে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। অনার্স ও এম এ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত হন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাম্যবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে সরদার ফজলুল করিম পাকিস্তান সরকারের কোপানলে পড়েন। এবং চার দফায় পুরো পাকিস্তান আমলটাই তিনি কারারুদ্ধ থাকেন। কারাবন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণের দাবিতে অন্যান্য রাজবন্দির সাথে তিনি ৫৮ দিনের অনশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তিনি পাকিস্তান কনস্টিটুয়েন্ট এসেমব্লির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ১৯৬৩ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি বিভাগে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উদ্যোগে সরদার ফজলুল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন, তবে দর্শন বিভাগে নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। অবসর গ্রহণের পরও দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষায়তনে শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আমরা অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে যদি এর প্রথম প্রজন্মের প্রতিনিধি বলে ধরে নিই, তবে সরদার ফজলুল করিম এবং তাঁর সমসাময়িকেরা হচ্ছেন দ্বিতীয় প্রজন্ম। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে প্লেটোর সংলাপ, প্লেটোর রিপাবলিক, নানা কথার পরের কথা, দর্শনকোষ, এ্যারিস্টটলের পলিটিক্স, সেই সে কাল, আবক্ষ, রুশোর স্যোশাল কন্ট্রাক্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ, রুমীর আম্মা, নূহের কিশতি, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা ইত্যাদি। কাজের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা, তার মধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার। তিনি ২০১৪ সালের ১৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন। এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে হয়তো সরদার ফজলুল করিম নিয়ে তেমন কিছুই আমার বলা হয়ে ওঠেনি। সরদার কেমন মানুষ তা একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করব তাঁরই একটা বক্তব্যের মাধ্যমে—‘তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওসমান নামে এক লাইব্রেরী এ্যসিস্টান্ট ছিলেন। এখনও লাইব্রেরীয়ানরা ওকে চিনতে পারেন। স্বাধীনতার পর আমি যখন প্রথম দিন লাইব্রেরীতে গেলাম তখন এই ওসমান আমাকে যেভাবে ওয়েলকাম করলো সেটা খুব সিগনিফিকেন্ট : “স্যার আপনি তো একটা ডেঞ্জারাস্ লোক। আপনি সেই যে পাকিস্তান ভাঙবেন বইলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেন, পাকিস্তান না ভাইঙ্গা আপনি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন না!”’
আমার উপলব্ধি, আমি বলছি সরদার স্যার, আপনি যে এত গ্রেট, এত সত্ সেটা আমি ভুলি কী করে? চিরবিদায়ে আপনাকে লাল সালাম। অমর আপনার জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও দর্শন।
একনজরে
জন্ম : পহেলা মে ১৯২৫
মৃত্যু : ১৫ জুন ২০১৪
পেশা : শিক্ষকতা
পুরস্কার : স্বাধীনতা দিবস পদক, বাংলা একাডেমি পদক
উল্লেখযোগ্য রচনা
আমি রুশো বলছি : দি কনফেশানস
সেইসব দার্শনিক
জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক স্মারকগ্রন্থ
এ্যারিস্টটল-এর পলিটিকস
প্লেটোর রিপাবলিক
আমি সরদার বলছি
দর্শনকোষ
নানাকথা ও নানাকথার পরের কথা
মুজাফফর আহমদ চৌধুরী স্মারক গ্রন্থ
সঙ্গ প্রসঙ্গের লেখা
পাঠ-প্রসঙ্গ
রুমীর আম্মা ও অন্যান্য প্রবন্ধ
আমি মানুষ
আর এক যুগে আর এক যুগোস্লাভিয়ায়
রুশোর সোশ্যাল কনট্রাক্ট
এঙ্গেলস-এর এ্যান্টি-ডুরিং
চল্লিশের দশকের ঢাকা
সেই সে কাল : কিছু স্মৃতি কিছু কথা
চল্লিশের দশকের ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ : অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা
গল্পের গল্প
দিনলিপি
প্লেটোর সংলাপ
আমি সরদার বলছি
এ্যামবিশন কাকে বলে?
১৯৪৫ বা ৪৬-এ একটি অফার আসে আমার কাছে বিলাত যাবার জন্যে। একটা স্কলারশিপ ছিল ‘রিজার্ভড ফর মুসলিমস’। আমাকে বলা হল কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং-এ এসে তুমি ইন্টারভিউতে এ্যাটেন্ড কর।
ইন্টারভিউ কার্ড নিয়ে আমি কলকাতায় যাই। কলকাতায় গিয়ে আমি রাইটার্স বিল্ডিং-এ না গিয়ে প্রথমে গেলাম কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে। ৮নং ডেকার্স লেনে, এটাই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির হেড কোয়ার্টার। সেখানে মুজাফ্ফর আহমেদ (যাকে আমরা কাকাবাবু বলতাম), নৃপেন চক্রবর্তী (যিনি পরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, আমার খুব প্রিয় লোক আর কি!)। আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘আমি তো বিলেত যাচ্ছি’। আমি ফিলসফিতে এম.এ. ও অনার্সে প্রথম শ্রেণি পেয়েছি, আমি মুসলিম। স্কলারশিপটা ফিলসফির জন্যে রিজার্ভড এবং মুসলমানদের জন্যে রিজার্ভড। সুতরাং স্কারশিপটা আমারই ছিল।
আমার আশ্চর্য লাগে, উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকটা আমার মধ্যে একেবারে খালি রয়ে গেছে। বিলেত যাব, পাস করে আসব—এসব নিয়ে ভাবতাম না। আমি যেই বললাম, ‘আমি বিলেতে যাবো’, ওঁরা শুনে হাসতে হাসতে ঠাট্টার ছলে বললেন, ‘আপনি বিলেত যাবেন আর আমরা এখানে বসে ভেরেণ্ডা ভাজবো?’ আমি বললাম, ‘আমাকে কি করতে হবে?’ ওঁরা বললেন, ‘কাঁথা-কম্বল নিয়ে পার্টি অফিসে চলে আসেন। কি করতে হবে বুঝেন না?’ তো কাঁথা কম্বল নিয়ে পরদিন আমি পার্টি অফিসে যাইনি কিন্তু ইন্টারভিউ কার্ডটা ছিঁড়ে ফেলেছিলাম।
ইতিহাসের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন সাহেব (সম্ভবত তখন ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট) ছিলেন ইন্টারভিউ বোর্ডের অন্যতম সদস্য। তিনি আমার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন। কলকাতা থেকে ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘সরদার কেন আপনি গেলেন না? হোয়াই ডিড ইউ নট গো?’ আমি বললাম, ‘না স্যার আমি দেশ ছেড়ে যেতে আগ্রহী নই।’ এটা একটা ঘটনা। মাহমুদ হোসেন সাহেব আশ্চর্য হয়েছিলেন। নিশ্চিত স্কলারশিপ পেয়েও বিলাত যেতে চায় না—এ কেমন ছেলে! বলে রাখা ভালো যে, এই ড. মাহমুদ হোসেন ভারতের একসময়ের রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ছোট ভাই।
আত্মকথা ‘আমি সরদার বলছি’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত