আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৪, ২১:০৬
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আত্মপ্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে দরিদ্রতা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জিপিএ-৫ পেয়েছে গরীব কিন্তু মেধাবী একাধিক শিক্ষার্থী। এরা কেউ দিনমজুর, স’মিল শ্রমিক ও ভূমিহীন বাবার সন্তান। তাই সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে চিন্তিত তাদের বাবা-মা।
দিনমজুরিকালে ভাল ফলাফলের
খবর পায় হাফিজুর
নেওয়াশী বুড়িরহাট গ্রামের দিনমজুর বাবা সৈয়দ আলীর সাথে অন্যের জমিতে ধান কাটার সময় এক বন্ধু এসে জানায় হাফিজুরের জিপিএ-৫ পাওয়ার সংবাদ। দ্রুত হাত চালিয়ে কাজ শেষে বাড়ি ফেরে শেষ বিকেলে। হাফিজুর রহমান নেওয়াশী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিত্সক হতে চায়। কিন্তু এ নিয়ে চিন্তিত তার বাবা-মা।
বন্ধুর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে
পড়ালেখা করেছে ফিরোজ
নেওয়াশী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বোয়ালভীর মাঝিটারী গ্রামের স’মিল শ্রমিক বোরহানউদ্দিনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ। বন্ধুর কাছে বই ধার নিয়ে পড়ালেখা করে ভালো ফলাফল করায় অভিভূত বাবা। কিন্তু অর্থাভাবে ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে এ চিন্তায় ফিকে বাবা বোরহানউদ্দিন ও মা ফুলমালা বেগমের চোখ-মুখ।
দিনমজুরি করে জিপিএ-৫
পেয়েছে আসাদুজ্জামান
সর্বগ্রাসী দুধকুমার নদ ফসলী জমি ও বসতভিটা গিলে খেয়ে নিঃস্ব করলেও শেষ করতে পারেনি খেলারভিটা গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর আহম্মদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামানের স্বপ্ন। তাই পঞ্চম শ্রেতে সাধারণ বৃত্তি পেলেও লেখাপড়ার ফাঁকে বাবার সাথে দিনমজুরি করে সংসারে সহযোগিতা করতে হয় তাকে। তারপরও বেরুবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে চিকিত্সা সেবা দিতে চাইলেও অর্থাভাবে তার স্বপ্নাকাশে কালো মেঘের ছায়া।
জিপিএ-৫ পেয়েও ফরিদুল কাজের
সন্ধানে গার্মেন্টেস কারখানায়
নাগেশ্বরীর বল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েও কাজের সন্ধানে গার্মেন্টস কারখানায় যাচ্ছে পৌর এলাকার মালভাঙ্গা গ্রামের ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি আইয়ুব আলীর ছেলে ফরিদুল। অভাবের সংসারে স্বল্প আয়ী বাবা আইয়ুব আলী ও মা ফজিলা বেগম পড়ালেখার খরচ চালাতে না পারায় পারিবারিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।