সম্প্রচার নীতিমালায় বিবেচনায় নিন বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে সম্প্রচার মাধ্যমে কর্মরত এবং বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। নীতিমালার মাধ্যমে যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব না হয় এজন্য সচেতন দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সরকার বা ক্ষমতাবানদের চাপিয়ে দেয়া অন্যায় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হলে নীতিমালা তৈরির উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে। টিভি মাধ্যমে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এখনও হয়নি। প্রিন্ট মাধ্যমের মত এ মাধ্যমে কর্মরতদের জন্য বেতনকাঠামো গঠন করা জরুরি। দেশের গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও উন্নয়নে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। যথার্থ সম্প্রচার নীতিমালা যেমনি গণতান্ত্রিক যাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তেমনি ‘ভ্রষ্ট নীতিমালা’ এ যাত্রাকে ব্যাহত করবে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা’ শীর্ষক বার্ষিক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সংগঠনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতন্ত্রের জন্যই জরুরি। সব পেশার দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার মাধ্যমেই সাংবাদিকরা সেই দায় শোধ করেন। সম্প্রচার নীতিমালা এ কাজে সাংবাদিকদের জন্য সহায়ক হবে। তিনি বলেন, দেশের টিভি চ্যানেলগুলো যেকোনো তথ্য প্রকাশ করলেই মানুষ সেটি বিশ্বাস করে। তৃণমূলে কিংবা নগরে সবক্ষেত্রেই সম্প্রচার মাধ্যমই জনগণের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেয়। তবে তড়িঘড়ি করতে গিয়ে ভুল তথ্য যেন উপস্থাপন করা না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরো যত্নবান হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা হতে হবে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যে। এ নীতিমালার মাধ্যমে কারা মিডিয়ার মালিক হবেন সেটি দেখতে হবে। কোন কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ী, গডফাদাররা তাদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যেন মিডিয়ার মালিক হতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে মিডিয়ার সতর্ক দৃষ্টি ও প্রচারণা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে, চূড়ান্তের আগে নিশ্চয় বিভিন্ন প্রস্তাবনা বিবেচনায় আনা হবে। প্রিন্ট মাধ্যমের মত সম্প্রচার মাধ্যমের কর্মীদের জন্যও বেতন কাঠামো গঠন সুফল বয়ে আনতে পারে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এম জসিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আফতাব উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হক।