তিনটি বড় ধরনের ক্যান্সারের জিন শনাক্ত

তিনটি মারাত্মক ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিন আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ তিনটি প্রধান ক্যান্সার হচ্ছে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার ও ওভারিয়ান ক্যান্সার এবং পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সার। বিজ্ঞানীদের এ নতুন জিন আবিষ্কারের ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিত্সায় এক নবদিগন্তের সূচনা হতে পারে এমন প্রত্যাশা করছেন ক্যান্সার গবেষকগণ। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান বা জরায়ুর ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার সমন্বিতভাবে মোট ক্যান্সার আক্রান্তদের এক-তৃতীয়াংশ। ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম উপাদান আবিষ্কার করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞগণ বিশ্বের ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ লোককে অন্তর্ভুক্ত করেন। বিশেষজ্ঞগণ আশা করছেন, তিনটি প্রধান ক্যান্সারের জিন বা দায়ী উপাদান শনাক্ত হওয়ায় ক্যান্সার চিকিত্সার ক্ষেত্রে চিকিত্সকদের সহায়ক হবে এবং তারা কোন ধরনের রোগীদের বারবার স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন। একইভাবে ক্যান্সার চিকিত্সার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া যাবে। ক্যান্সারের জিন আবিষ্কার সংক্রান্ত এ বৈজ্ঞানিক তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার জেনেটিকসসহ ১৩টি জার্নালে। ক্যান্সার নিয়ে গবেষণার অন্যতম গবেষক ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডগলাস ইস্টন মনে করেন তিনটি প্রধান ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিন আবিষ্কৃত হওয়ায় চিকিত্সা ও ক্যান্সার নিরূপণে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। এ ব্যাপারে রচেস্টার মায়ো ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ ড. ফারগুস কোচ ক্যান্সারের যেসব জিন আবিষ্কার হয়েছে তাদের সব যদি একত্রে করা যায় তাহলে অবশ্যই বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেন প্রোস্টেট, স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সারে বিশ্বের ২৫ লাখ লোক আক্রান্ত হন এবং তন্মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়। গবেষণা রিপোর্টে কোন ধরনের জিন বেশি থাকলে কোন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি তাও উল্লেখ করা হয়। প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তের ক্ষেত্রে মার্কিন বিশেষজ্ঞগণ বারবার পিএসএ বা প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন টেস্ট না করতে বলেছেন। কারণ পিএসএ টেস্ট প্রায়শই ফলস পজিটিভ হয়। তবে যেসব রোগীদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের জেনিটিক রিস্ক আছে তারা পিএসএ টেস্ট করতে পারেন বলে অভিমত দেয়া হয়। তবে ব্রিটেনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্সের বিশেষজ্ঞ রোজালিন এলিস মনে করেন বংশগত কারণে বা জেনেটিক কারণে প্রোস্টেট ক্যান্সার হলে পিএসএ পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি কাজ দেয়। লেখক:চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ