পরিত্যক্ত ম্যাচে প্রাপ্তি সেই তাসকিন
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০১
৩৪.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলতে পারে ভারত। এরপর তৃতীয় দফায় বৃষ্টি নেমে খেলাটাইকে পরিত্যক্ত করতে বাধ্য করেছে।
ভারতের বিপক্ষে গতকাল শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজটাকে বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাইবে নিশ্চয়ই। গতকাল শেষ ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও আগের দুই ম্যাচে যে অবমাননা সইতে হয়েছে, তা ভুলে না গিয়ে উপায় কী!
অবশ্য এই কথার প্রতিবাদ করতে পারেন বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম ম্যাচে তারা নিয়েছিলেন ৮ উইকেট; এর মধ্যে তাসকিনের একারই শিকার ছিল ৫টি। গতকালও তাসকিন তুলে নিলেন ২টি উইকেট; পেসারদের মোট ৫ উইকেট। সঙ্গে সাকিব চেনা চেহারায় ফিরে ৩টি উইকেট নেয়ায় মাত্র ৩৪.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলতে পারে ভারত।
এরপর তৃতীয় দফায় বৃষ্টি নেমে খেলাটাইকে পরিত্যক্ত করতে বাধ্য করেছে।
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শুরু হয়েছিল গতকালকের ম্যাচ। প্রথম দফা বৃষ্টির ফলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নামিয়ে আনা হয় ৪০ ওভারে। আরও এক দফা বৃষ্টিতে সে ম্যাচ বিঘ্নিত হয়ে আবারও শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভারতের নবম উইকেটের পতনের পর যে বৃষ্টি হল, সেটাকে আর হারানো সম্ভব হল না কিউরেটরদের পক্ষে।
ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ সফর শেষ করলো ভারত। বাংলাদেশের এই সফরে প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। এর মধ্যেও কাউকে প্রাপ্তি বলতে গেলে, সেটা ছিলেন বাংলাদেশের তিন পেসার—মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল আমিন ও তাসকিন আহমেদ। বিশেষ করে অভিষিক্ত তাসকিনের উত্থান হতে পারে বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা।
গত মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচেও মিরপুরের উইকেটে একচেটিয়া রাজত্ব করেছেন পেস বোলাররা। তাসকিন-মাশরাফিদের গতিতে বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় ক্রিকেট দল। ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ভারতের দশ উইকেটের মধ্যে আট উইকেট পেসারদের দখলে। একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতার জানান দিয়েছেন তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ। এদিন দুই উইকেট নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু হতাশার ব্যাপার হলো, ১০৬ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমেও ৫৮ রানের লজ্জায় পরে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ সেরা ভারতীয় মিডিয়াম পেসার স্টুয়ার্ট বিনি যে খুব ভালো বোলিং করেছেন ব্যাপারটা এমন না, বরং বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা নিজেরাই নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। ১০৬ রান তাড়া করতে নেমে ৪৭ রানে হারে বাংলাদেশ জাতীয় দল।
গতকাল বৃহস্পতিবার একই উইকেটে শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিনও সফল বাংলাদেশের পেস বোলাররা। তাসকিন, আল-আমিন ও মাশরাফিদের গতিতে বিধ্বস্ত টিম ইন্ডিয়া। শুরুতেই ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙ্গে দেন পেসাররা। ৫৭ রানে টপঅর্ডার পাঁচ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে দিশেহারা সুরেশ রায়নার বাহিনী। বৃষ্টি বৃঘ্নিত ম্যাচে ৩২.২ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। পেসারদের দখলে পাঁচ উইকেট।
তাসকিন-আল আমিনরা দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন। এক উইকেট নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। স্পিনারদের মধ্যে তিন উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।
গতকাল ছিল মাশরাফির ২০০তম ম্যাচ। এশিয়া একাদশের হয়ে ২টি এবং বাংলাদেশের হয়ে ১৯৮টি ম্যাচ খেলেছেন এই পেসার। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইল ফলকে পা রাখলেন। বলা যায় স্টাইলিশভাবেই মাইলফলকটা উদযাপন করলেন।
রবিন উথাপ্পাকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটা করেছিলেন মাশরাফি। প্রথম দুই ম্যাচের মতো গতকালই দারুণ ছন্দে বল করেছেন দেশের সেরা এই পেস বোলার। এরপর অন্য প্রান্তে রাহের উইকেট তুলে নেন আল আমিন। আর তৃতীয় আঘাতটা করেন সেই তাসকিন। এরপর তাসকিন নিয়েছেন আরও একটি উইকেট। সবমিলিয়ে ম্যাচে ৮ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
দুই ম্যাচে তাসকিনের শিকার এখন ৭ উইকেট। এখন অপেক্ষা এই ধারাটা ধরে রাখার।