স্পেনের হারটা অঘটন নয়

নেদারল্যান্ডসের পর এবার চিলির কাছে হেরে বিশ্বকাপের এবারের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন। চিলির কাছে তাদের ২-০ গোলের হারকে এবারের আসরের বড় অঘটন বলতে চাইবেন অনেকেই। তবে আমি বলবো অঘটন তো নয়ই বরং জয়টা প্রাপ্যই ছিলো চিলির। স্পেনের দলটির দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কিছু তারকার দেখা মিলবে সেখানে। কোন পজিশনে দুর্বলতা তাদের? গোলপোস্টের নিচে ইকার ক্যাসিয়াস, তার ঠিক সামনেই আছেন জেরার্ড পিকে এবং সার্জিও রামোসের মতো দুই রক্ষণ স্তম্ভ। তাদের ঠিক সামনেই আক্রমণ আর রক্ষণের যোগসূত্র স্থাপনের জন্য আছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জাভি আলোনসো। দুই উইংয়ে সার্জিও বুসকেটস, ডেভিড সিলভাদের পাশে মাঝ মাঠে আছেন বিশ্বফুটবলের অন্যতম কুশলী এবং সৃষ্টিশীল দুই মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তাহলে, স্পেনের এই দুরবস্থা কেন? কারণটা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীরই। আপনি এই দলটাকে বলছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তারকাবহুল দল। এর মানে হচ্ছে এই দলের খেলোয়াড়রা যদি অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকেন, তাহলে তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন স্ট্যামিনায়। বিশ্বকাপ কখনোই ত্রিশোর্ধ্ব খেলোয়াড়দের জন্য খুব সহজ নয়। কারণ, এখানে এমন কিছু দলের মোকাবেলা আপনাকে করতে হবে যারা প্রাকৃতিকভাবেই আপনার চেয়ে শারীরিকভাবে শক্তিশালী। তাছাড়া, অনভ্যস্ত পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপারটা তো থাকছেই। ইউরোপের মতো শীতপ্রধান একটি দেশের খেলোয়াড়দের ব্রাজিলের তীব্র গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার সাথে রাতারাতি মানিয়ে নেয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়। যদিও, স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক দাবি করেছেন, আবহাওয়ার কোন প্রভাব তাদের পারফরম্যান্সে ছিল না। এই সব বিষয়ের পাশাপাশি আমি বলবো আরেকটি বিষয়ও, প্রথম ম্যাচের ঐ পরাজয়। একটি দল যখন প্রথম ম্যাচে ওভাবে বিধ্বস্ত হয়, তখন সেটা খেলোয়াড়দের মনোজগতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সেই ব্যাপারটাই ঘটেছে স্প্যানিয়ার্ডদের ক্ষেত্রে। এদিক থেকে চিলির অবস্থান ছিল ঠিক বিপরীত। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ এ বিধ্বস্ত করা দলটি ছিল আত্মবিশ্বাসী ভরপুর। ম্যাচে, চিলিয়ানদের শারীরিক ভাষাও বলছিল সেটাই। তাদের জয়কে আমি অঘটন বলতে নারাজ আরো একটি কারণে। একটি দল যখন জয়ের জন্যই পুরো ৯০ মিনিট খেলে, তখন তাদের জয়কে আপনি অঘটন বলেন কিভাবে? প্রথম মিনিট থেকেই তারা স্পেনকে চেপে ধরতে চেয়েছে। এমনটি গোল দেয়ার পরেও তাদের কৌশলে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। দলের বার্সেলোনা তারকা জাভিয়ের হার্নান্দেজ এই ম্যাচেও ছিলেন দুর্দান্ত। অন্য স্ট্রাইকার ভালদিভার পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। সব মিলে তাদের জন্য এই জয়টা প্রাপ্যই ছিল বলবো আমি। আর নেদারল্যান্ডসকে অস্ট্রেলিয়া চমকে দিলেও শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপটা সামলে নিতে পেরেছে নেদারল্যান্ডস। ফলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। নেদারল্যান্ডসের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আমার দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি বিষয়ও। সেটা হচ্ছে ভাগ্য। বিশ্বকাপে প্রায় কখনোই ভাগ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষে না থাকলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রম দেখতে পাচ্ছি আমি। নইলে, ২-১ এ এগিয়ে থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া যে দুটি সুযোগ পেয়েছিল তার যে কোনটাই গোল হয়ে যেতে পারতো। ডাচ গোলরক্ষকের অবদানের পাশাপাশি নিশ্চিতভাবেই সৌভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল তাদের। আজ ইতালি-কোস্টারিকা ম্যাচে ইতালি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কোস্টারিকা জিতে গেলেও আমি অবাক হব না। কারণ, প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের উপযুক্ত প্রমাণও দিয়েছে তারা। তবে, মারিও বালোতেল্লি, আন্দ্রিয়া পিরলোদের সাথে তাদের পাল্লা দেয়াটা কঠিনই হবে। রাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড। যদিও, প্রথম ম্যাচে দু’দলই জয় পাওয়ায় আজ কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলা খেলতে পারে তারা। তবে, আমি ফ্রান্সকে কিছুটা এগিয়ে রাখবো।