দারিদ্র্য বিমোচনসহ বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ কর্মকর্তা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও মহাসচিব বান কি মুনের ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)’ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেফরি ডেভিড স্যাকস বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বৈষম্য দূর করা না গেলে এমডিজি পুরোমাত্রায় অর্জন করা কঠিন। জাতিসংঘ স্বীকৃত ৪৯টি স্বল্পোন্নত দেশ এখনো বিশ্ব বাণিজ্যে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে সুনির্দিষ্ট সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও স্থায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড এমডিজিস: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক বক্তৃতায় ডেভিড স্যাকস বলেন, গত কয়েক বছরে নানা ধরনের সমস্যা সত্ত্বেও দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন, মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তবে বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারা ধরে রাখতে এবং আরো এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠা দরকার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের বসতি বিপন্ন, সামাজিক ভারসাম্য, নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চতায় পড়ে। এ অবস্থায় দারিদ্র্য বিমোচনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়া অসম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, এমডিজি অর্জনের প্রধান অন্তরায় জলবায়ু পরিবর্তন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন প্রয়োজন শুধু উন্নত বিশ্বের সহায়তা। সভায় আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের ইউএনডিপি’র পরিচালক খালেদ মালিক।