পল্লবীতে বিহারীদের সড়ক অবরোধ

অপরাধী শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ পল্লবীর কালশীর কুর্মিটোলা ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে ও গুলি করে ১০ জন হত্যার ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্যাম্পবাসীরা। এ সময় তারা গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে, ডিবির তদন্তে এখনও সহিংসতায় জড়িতরা শনাক্ত হয়নি। সহিংসতায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গতকাল দুপুরে কালশীর নতুন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বাসিন্দারা। তারা কালো পতাকা হাতে সড়কের এক পাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার দিন পুলিশের ব্যবহূত টিয়ারশেল ও গুলির খোসা সামনে রেখে তারা সহিংসতায় ‘উস্কানিদাতা’ পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান। নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তারা। ওয়েলফেরার মিশন অব বিহারিজ (বাংলাদেশ)-এর সভাপতি মুশতাক আহমেদ বলেন, প্রায় আধাঘন্টা ধরে চলে এ বিক্ষোভ। পরে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা সহিংসতায় জড়িতদের বিচার দাবিতে শনিবার কালশীতে মানববন্ধন করবেন বলেও জানান। গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে না দেয়ায় বিহারিদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে দাবি করেন মুশতাক আহমেদ। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে যান নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করেন। এ সময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। পরে ডিএমপি কমিশনার স্বজনহারা দুই পরিবারের সদস্যদের অর্থ সহায়তা করেন। তিনি আরও বলেন, এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। ক্যাম্পের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় দায়ের করা ছয় মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে ডিবির উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, হত্যা মামলাটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কে বা কারা ঘরে আগুন দিয়ে নয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন জনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। এখন মূল অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলমকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়। কমিটি সূত্র জানায়, মূলত ঘটনাটি কেন ঘটেছে, কারা এ জন্য দায়ী তা খুঁজে বের করার কাজ করছে কমিটি।