বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব গভীর ও শক্তিশালী
শহীদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০৯
ওয়াশিংটনে ড্যান মজীনা
বাংলাদেশকে আবারো অপার সম্ভাবনার দেশ উল্লেখ করে দেশটির যুব ও তরুণ সমাজকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকল মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন ঢাকায় সদ্য বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বকে সব সময়ের তুলনায় বৃহত্, গভীর এবং শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ড্যান মজিনা।
এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক ওয়াল্টার লোহম্যানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মজিনা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গত বছরটি ছিল চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিরামহীনভাবে চলেছে হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ, বিক্ষোভসহ নানান সহিংস কর্মকাণ্ড, যাতে স্থবির ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতিসহ স্বাভাবিক জনজীবন। সহিংসতার শিকার হন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরীহ সাধারণ মানুষ।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ মন্তব্য করে ড্যান মজিনা বলেন, দেশের প্রধান বিরোধী দলের বর্জনের কারণে নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের অর্ধেকেরও বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি আসনগুলোর নির্বাচনে যেনতেনভাবে প্রতীকী বিরোধী দল দেখিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচনের পর সহিংসতা লেগেই রয়েছে; তবে তার ধরন পরিবর্তন হয়ে অপহরণ, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজকে অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলেছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে। সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলছে; বিশেষ করে দারিদ্র্য নিরসনে, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুরোধে। পোশাক খাতে অগ্নিনিরাপত্তা ও কারখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শ্রমিকের অধিকার বিষয়সমূহকে আন্তর্জাতিক মানে আনার চেষ্টা চলছে।
এই অশান্ত রাজনৈতিক একটি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের সম্পর্ক কেমন ছিল এ প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত মজিনা বলেন, সবচেয়ে ভালো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেয়ার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এদেশে লেখাপড়ার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। ভিসা পদ্ধতিও সহজ করা হয়েছে।
ড্যান মজিনা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসাবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদবিতে থাকা অবস্থায় তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং ওই অঞ্চলের জনগণের স্বার্থে কাজ করেছেন। রাষ্ট্রদূত মজিনা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রদূত মজিনাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিসা আয়ার্স।