টাকা নিয়ে ছাত্রদের উত্তরপত্র লেখার সুযোগ দান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষার খাতায় অর্থের বিনিময়ে উত্তর লিখিয়ে বেশি নম্বর পাইয়ে দিতে ২ পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে এনে ফেঁসে গেছেন রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষক। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষক আবুল আলাম আজাদ ও তার শ্যালিকা লাইলী খাতুনকে হাতেনাতে আটকের পর দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ রাজশাহীর মোহনপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের ইংরেজীর প্রভাষক এবং শ্যালিকা লাইলী খাতুন রাজশাহী কলেজ থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। জানা গেছে, পরীক্ষক আবুল কালাম আজাদের পক্ষ থেকে তার শ্যালিকা অব্যাহতভাবে যশোরের এমএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বাদশা আলমগীর ও আসাদুজ্জামানকে ফোনে হুমকি দিয়ে আসছিল অর্থ দিয়ে উত্তরপত্রে লিখে নম্বর বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ নিতে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা যোগাযোগ করেন পরীক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। কথা হয়, তারা এই সুযোগ নেবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী দুইজন এমএম কলেজের অধ্যক্ষ এসএম ইবাদুল হককে ঘটনাটি জানালে তিনি যশোর জেলা প্রশাসনকে তা অবহিত করেন। যশোর জেলা প্রশাসন তখন যোগাযোগ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিক্ষকের বাসায় যাবার উদ্দেশ্যে রাজশাহী আসে ওই দুই শিক্ষার্থী। শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সিএন্ডবি মোড়ে বসে ছিলেন। প্রশাসন লোকেরা যাতে তাদের চিনতে পারে সে জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী হাতে ছিল রুমাল। সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক আবুল আলাম আজাদ নিজে এসে তাদের কাজিহাটা এলাকায় তার বাসায় নিয়ে যান। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ওই শিক্ষকের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় ওই শিক্ষক ও তার শ্যালিকা লাইলী খাতুনকে উত্তরপত্রসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই শিক্ষক ও তার শ্যালিকাকে ২ বছরের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতায় জীবনবৃত্তান্তে দেয়া মোবাইল নম্বরে শ্যালিকা লাইলীকে দিয়ে যোগাযোগ করান পরীক্ষক আবুল কালাম আজাদ। পরে উত্তরপত্রে লিখে নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। অন্যথায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য করিয়ে দেয়ার হুমকি দেন ওই শিক্ষক। দণ্ডিতদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।